টয়লেট না থাকায় স্বামী ত্যাগ!


প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ১৩ মে ২০১৫

বাড়িতে টয়লেট না থাকায় চার বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছেন সুনিতা দেবী নামের এক  গৃহবধূ। ভারতের বিহারে এ ঘটনা ঘটেছে।

সুনিতার বলেন, এ ছাড়া আমার কী করার ছিল। উন্মুক্ত ময়দানে প্রাকৃতিক কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের কথা শোনা ও অপমানের চেয়ে স্বামীকে ত্যাগ করাই আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের ভাইশালীর পাহাড়পুরে। ২০১১ সালে বিশেনপুর পঞ্চায়েতে সবজি ব্যবসায়ী ধীরাজ চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সুনিতা। সন্তানহীন এই দম্পতি দুই রুমের একটি বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। যে ঘরের অর্ধেক পাকা, অর্ধেক কাঁচা। সঙ্গে থাকত ধীরাজের বাবা-মা।

কিন্তু একটি পায়খানার কারণে তাদের চার বছরের বৈবাহিক সম্পর্কে ছেদ পড়ল। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাকৃতিক কাজের জন্য পায়খানার খুবই সঙ্কট চলছে। এর ফলে নারীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাতে প্রাকৃতিক কাজ সারতে হয়। কিন্তু তাতেও মুক্তি নেই। বাড়ির বাইরে গিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারতে গিয়ে দেশটির অনেক নারী অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এমনকি অনেকেই গণধর্ষণের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।

বাসায় টয়লেট না থাকাতে তাদের সম্পর্ক ভাঙার কথা স্বীকার করে সুনিতার স্বামী ধীরাজ জানান,‘সুনিতা আমাকে প্রায়ই টয়লেট বানানো কথা বলেছে। কিন্তু আমার কাছে তা বানানোর মতো টাকা নেই।’

তিনি আরও বলেন,‘সম্প্রতি আমার বাবা মারা গেছেন। তাই পুরো সংসার চলত আমার সামান্য আয়ের ওপর।’

সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ৯২ শতাংশ বাড়িতে টয়লেট নেই। এ ছাড়া বিহারে ৮২ শতাংশ, উত্তরপ্রদেশে ৭৮ শতাংশ এবং ওডিশা, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশে ৮৫ শতাংশের বেশি বাড়িতে টয়লেট নেই।

একে/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।