অভিবাসী ইস্যু নিয়ে বৈঠকে অংশ নেবে না মিয়ানমার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ মানবপাচার বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাবে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।
সাম্প্রতিক মালয় সাগরসহ আশপাশের থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কয়েক হাজার নাগরিক উদ্ধারের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে ওই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা এতে আগ্রহ দেখিয়ে তারা এর প্রস্তাবক হয়। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এ বৈঠক হওয়ার কথাছিল।
তবে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার জানিয়ে দেওয়া হয় রোহিঙ্গাদের চলে যাওয়া নিয়ে এখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কোনো ভাষ্য নেই। তারা আপাতত মানবপাচারের এই বিষয় নিয়ে কোনো বৈঠকে বসতে রাজি নয় বলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যৌথ কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকের জন্য মালয়েশিয়া সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী মানবপাচারের শিকার বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পাচার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
মিয়ানমারের এ অবস্থান ন্যক্কারজনক ও মানবপাচারের সমাধানের পথকে অনেকটাই রুদ্ধ করে দেবে বলে মনে করছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয় দেখভাল করছেন এমন একজন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মিয়ানমারের রাখাইন এলাকা থেকেই মূলত মিয়ানমারের নাগরিকদের নেওয়া হয়; যাদের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশিরাও। তাই আন্তঃসীমান্ত এই অপরাধ বন্ধে মিয়ানমার সরকারের পদক্ষেপ খুবই জরুরি।
তবে, রোহিঙ্গাদের প্রতি এমনিতেই মিয়ানমার সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তাদের (রোহিঙ্গা) সমস্যা নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সহজেই সরব হবে এমনটা মনে করারও কোনো কারণ নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, মানবপাচারের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই উদ্যোগী হতে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এআরএস/এমএস