দু’মুখো মোদি ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে : সোনিয়া


প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ০৯ জুন ২০১৫

মোদির দু’মুখো কৌশলের কারণে ইতিমধ্যেই ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে  কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, মোদি একদিকে নিজেকে সুশাসন ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতীভূ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। অন্যদিকে নিজের সাঙ্গোপাঙ্গোদের সাম্প্রদায়িক বিভাজন উস্কে দিতে কাজে লাগাচ্ছেন। তাদের দিয়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন,  নিজে নেপথ্যে থেকে সাম্প্রদায়িক বিভাজন উস্কে দিয়ে সাঙ্গপাঙ্গদের সাহায্যে আতঙ্ক ও সংশয়-সন্দেহের পরিবেশ সৃষ্টি করছেন মোদি।

সোনিয়া বলেন, কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের আদর্শ সুকৌশলে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। জমি ও খাদ্য সুরক্ষার মতো বিলগুলির সর্বতোভাবে বিরোধিতার জন্য তিনি দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানান।

গত বছরে লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর এই প্রথম কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই মঞ্চ থেকে মোদিকে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন সোনিয়া। তার অভিযোগ, এভাবে নেপথ্যে থেকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উস্কে দিতে মোদি যে কৌশল নিয়েছেন তা বিপজ্জনক লোক ঠকানোর খেলা ছাড়া অন্য কিছুই নয়।

তিনি অভিযোগ করেছেন, বিগত কয়েক দশক ধরে কংগ্রেস শাসিত সরকার যে কল্যাণকর রাষ্ট্রের আদর্শ গড়ে তুলেছিল, তা ধূলিসাৎ করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের এই সব কাজকর্মের ধরণ ও কৌশল- উভয়ই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের রাশ নজিরবিহীনভাবে ব্যক্তিবিশেষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। নাগরিক সমাজকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিচারবিভাগকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।

এক বছরেই মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের এই কাজকর্মের ধরণ ও কৌশল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী।

খাদ্য নিরাপত্তা ও জমি বিল সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইনের আওতায় থাকা জনসংখ্যা ৬৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের পণ্যের সহায়ক মূল্য প্রদান ও খাদ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসে চেষ্টা চলছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, গ্রামীন জীবনের উন্নয়ন, নারী ও শিশু কল্যাণ এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের কল্যাণ সংক্রান্ত খাতে বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন সোনিয়া। কেন্দ্র সর্বস্তরে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এসময় রাজ্যের স্বার্থে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীদের কেন্দ্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করার কথাও বলেন তিনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান কংগ্রেস সভানেত্রী।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে সহযোগিতামূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা কেন্দ্রের দায়িত্ব।

এসএইচএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।