এক আকাশে তিনটি চাঁদ!


প্রকাশিত: ০৯:২৮ এএম, ২৪ জুন ২০১৫

অমবস্যা পূর্নিমার খেলায় অনেক সময় একটি চাঁদ দেখাও যেখানে কষ্টকর হয় সেখানে আবার তিন তিনটি চাঁদ! হ্যাঁ এমনি দুর্লভ একটি দৃশ্য ধারণ করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। খবর আইএএনএসের।

সম্প্রতি শনি গ্রহ পর্যবেক্ষণরত যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার মহাকাশযান ক্যাসিনি শনি গ্রহে একসঙ্গে তিন চাঁদের দুর্লভ দৃশ্য ধারণ করেছে। নাসার এই মহাকাশযানটি ১৯৯৭ সাল থেকে শনি গ্রহকে পর্যবেক্ষণ করছে।

নাসার গবেষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত নামকরণ হওয়া শনি গ্রহের প্রাকৃতিক উপগ্রহের সংখ্যা ৫৩ টি। তবে নয়টি চাঁদকে বিজ্ঞানীরা স্বীকৃতি দিয়েছেন। শনির এই একাধিক চাঁদের আলো কমবেশি হলেও সেই দৃশ্য অনেক সময় অসাধারণ এক সম্মোহনী ছবি সৃষ্টি করে। তেমনি একটি দৃশ্য হচ্ছে একসঙ্গে এই তিন চাঁদ।

ক্যাসিনির তোলা ছবিতে শনির সবচেয়ে বড় চাঁদ টাইটানকে মেঘের স্তরের কারণে একটু ঘোলাটে দেখাচ্ছে। টাইটান হচ্ছে শনি গ্রহের বৃহত্তম উপগ্রহ। এটি সৌর জগতের একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ যাতে ঘন বায়ুমণ্ডল ও তরল পদার্থের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

টাইটানের অনেকটা উপবৃত্তীয় গোলক আকৃতির। গ্রহের সঙ্গে অনেক সামঞ্জস্য থাকার কারণে অনেক সময়ই একে গ্রহ-সদৃশ উপগ্রহ বলা হয়। টাইটানের ব্যাস চাঁদের দেড় গুণ এবং ভর চাঁদের ১ দশমিক ৮ গুণ।

শনির আকাশে একসঙ্গে তিন চাঁদের দুর্লভ দৃশ্য ধারণ করেছে মহাকাশযান ক্যাসিনি। টাইটানের বায়ুমণ্ডল মূলত নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত, ছোট ছোট যৌগ পদার্থ মিলে এতে মিথেন এবং ইথেন এর মেঘ ও নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ কুয়াশা তৈরি করেছে। এর জলবায়ু সেখানে অনেকটা পৃথিবীর মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, টাইটানে বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টি দুইই রয়েছে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। অনেক গবেষক বলছেন টাইটানের পৃষ্ঠতলের নিচে তরল পদার্থের সমুদ্র থাকতে পারে এবং সেটা জীবন ধারণের জন্য উপযোগীও হতে পারে। আমাদের সৌরজগতে এই উপগ্রহটি ঘিরেই বিজ্ঞানীদের বেশি আগ্রহ রয়েছে।

টাইটানের পাশের বামদিকের চাঁদটির নাম রিয়া। যার আকার টাইটানের এক তৃতীয়াংশ। বরফাবৃত গুহার কারণে এই চাঁদটিকে বেশি উঁচুনিচু দেখায়।

মহাকাশযান ক্যাসিনির তোলা ছবিতে দৃশ্যমান ছোট অর্ধচন্দ্রাকৃতির বস্তুটির নাম মিমাস। এটি টাইটানের চেয়ে ১৩ গুণ ছোট।

নাসার মহাকাশযানটি এই ছবি ১৯ লাখ কিলোমিটার দূর থেকে তুলেছে। খালি চোখে কোনো মানুষ শনিতে দাঁড়িয়ে যে দৃশ্য দেখবে সেভাবেই ছবিটি ধরার চেষ্টা করেছে ক্যাসিনি।

উল্লেখ্য, শনি সৌরজগতের ৬ষ্ঠ গ্রহ। বৃহস্পতির পর এটি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। সূর্যের দিক থেকে এর অবস্থান ষষ্ঠ। রোমান দেবতা স্যাটার্ন এর নামানুসারে ইংরেজি নামটি গ্রহণ করা হয়েছে। এই গ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে পাথুরে উপকরণ। মধ্য ও উপরিভাগের অধিকাংশই হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে তৈরি। এই গ্রহকে ঘিরে রয়েছে বিস্তৃত বলয়।

শনির উপরিভাগের সাত হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত মেঘরাশির ওপর থেকে এই বলয়ের শুরু এবং তা প্রায় ৭৪ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। শনি গ্রহটি তার আকর্ষণীয় বলয়ের কারণেই সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের তুলনায় সৌন্দর্যের উৎকর্ষে রয়েছে, যা মহাজাগতিক ক্যানভাসে সৃষ্টি করেছে এক বিমূর্ত চিত্র। ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি সর্বপ্রথম টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনি গ্রহকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং এর দৃষ্টিনন্দন বলয় দেখতে পান।

এসকেডি/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।