শাড়ি পরে স্কাইডাইভিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

শীতল মহাজন রানে। স্কাইডাইভিং তার কেবল নেশাই নয় পেশাও। উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুতে প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া তিনিই সর্বকনিষ্ঠ নারী। আর সেটাও তিনি কোনো ট্রায়াল ছাড়াই করেছেন বলে খবর রয়েছে। ছয়টি বিশ্ব রেকর্ডের মালিকও তিনি। ১৭টি জাতীয় রেকর্ডও রয়েছে ভারতীয় এই তরুণীর নামে। দেশে নিজের একটি স্কাইডাইভিং একাডেমিও রয়েছে তার।

কোনো নারী যখন আকাশটাকেই নিজের বশে নিয়ে নেন তখন তাকে কে আর কী দিতে পারে। তারপরও ২০১১ সালে ভারতীয় সরকার তাকে পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করে। কিন্তু শীতলের বিস্ময়কর আরও অনেক কিছু করার বাকি ছিল তখনও। সম্প্রতি সেগুলোরই একটা তিনি সফলভাবে শেষ করেছেন।

৩৫ বছর বয়সী শীতলের সর্বশেষ অর্জনে অনেকেরই মুখ হাঁ হয়ে গেছে। থাইল্যান্ডের থাই স্কাইডাইভিং সেন্টার পাতায়ায় ১৩ হাজার ফিট উঁচু থেকে তিনি স্কাইডাইভ করেছেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি হলো- এটি তিনি করেছেন ঐতিহ্যবাহী নৌবরি শাড়ি পরে।

পায়ে স্কাইডাইভিংয়ের বুট, চোখে গ্লাস, মাথায় হেলমেট ,হাতে গ্লাভস, পিঠে প্যারাসুটের ব্যাগ বেঁধে বেগুণী পাড়ের গোলাপি শাড়ি পরে শীতল ঝাঁপিয়ে পড়েন। উদ্দেশ্য ছিল মহারাষ্ট্রে তার শিকড়কে সম্মান জানানো।

পুনে মিররকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমি আমার আগের সমস্ত অর্জন ভারতকে উৎসর্গ করছি, কারণ আমি ভারতের মেয়ে। তাই এবার আমি মারাঠি সম্প্রদায়ের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম, পুনে আর আমার সম্প্রদায়ের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম।

শাড়ির মতো একটা পোশাক পরে এ ধরনের কাজ করা যে বিপজ্জনক তা তিনি খুব ভালোই বুঝেছিলেন। তারপরও তিনি প্রস্তুত ছিলেন।

‘পেশওয়াদের সময় থেকে এ শাড়ি চলে আসছে। যার ফলে আমার মনে হয়েছিল এটা তুলনামূলক নিরাপদ হবে। তারপরও শাড়ি কোনো অংশ যদি বাইরে চলে আসত তার কারণে বিপত হতে পারত। আমি সেভাবেই প্রস্তুতি নিই।’

শুধু মহারাষ্ট্রকেই নয় এই সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে শীতল আগামী আন্তর্জাতিক নারী দিবসকেও স্মরণ করেছেন। ৎ

শীতল বলছেন, ‘আমি সবসময় স্কাইডাইভিং নিয়ে ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমার ১৭টি জাতীয় এবং ৬টি বিশ্বরেকর্ড রয়েছে। সুযোগ পেলে ভারতীয় নারীরা কী করতে পারে তা দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলাম আমি। আমি যখন উত্তর মেরুতে এটা করি তখন আমি বিশ্বকে শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম যে, ভারতীয় নারীরা সব পারে।

সূত্র : স্টোরিপিক।

এনএফ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]