বিভিন্ন দেশের শতাধিক রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৮ এএম, ২৭ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ১১:২০ এএম, ২৭ মার্চ ২০১৮

সাবেক রুশ গুপ্তচরকে বিষ প্রয়োগে হত্যা চেষ্টার পর যুক্তরাজ্যসহ ২০টির বেশি দেশ শতাধিক রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে। সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ের ওপর সোভিয়েত আমলের দুর্লভ নার্ভ এজেন্ট দিয়ে আক্রমণ করার প্রেক্ষিতে এ মাসের শুরুতে ২৩ রুশ কূটনৈতিক বহিষ্কার করে যুক্তরাজ্য। তারই ধারাবহিকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছেন রুশ কূটনীতিকরা।

তবে সবচেয়ে বেশি মোট ৬০ জন কূটনীতিক বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রথম রাশিয়ার এত বেশি সংখ্যক কূটনীতিককে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে একসঙ্গে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইউরোপে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে হত্যার চেষ্টাকে খুবই দুঃখজনক বলে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল।

এদিকে, এ আচরণকে উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করে রাশিয়া জানিয়েছে শিগগিরই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে তারা। সের্গেই স্ক্রিপালকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া।

গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা রাশিয়ার নার্ভ এজেন্ট ব্যবহারের বিষয়টিতে একমত হন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকার আমাদের সবার স্বার্থ ও রীতির বাইরে গিয়ে মহাদেশের ভেতরে ও বিশ্বব্যপী বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন।

ইউরোপের একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সাথে এই হুমকির প্রতিরোধ করবে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটি মনে করে এ পদক্ষেপ বিরোধিতার সম্পর্ক তৈরির ধারাবাহিক অংশ। সেই সঙ্গে এ আচরণকে অবন্ধুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এ ব্যবস্থায় অংশ নেয়া সব দেশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয় ঐ বিবৃতিতে।

এমাসের শুরুতে ২৩ জন রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য। সোমবার আরো কয়েকটি দেশ ঘোষণা দেয় যে তারাও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬০ জন, ফ্রান্স ৪ জন, জার্মানি ৪ জন, পোল্যান্ড ৪ জন, চেক প্রজাতন্ত্র ৩ জন, লিথুয়ানিয়া ৩ জন, ডেনমার্ক ২ জন, নেদারল্যান্ডস ২ জন, ইতালি ২ জন, স্পেন ২ জন, এস্তোনিয়া ১ জন, ক্রোয়েশিয়া ১ জন, ফিনল্যান্ড ১ জন, হাঙ্গেরি ১ জন, লাটভিয়া ১ জন, রোমানিয়া ১ জন এবং সুইডেন ১ জন রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার করছে।

কানাডা ৪ জন এবং রাশিয়া থেকে আরো ৩ জনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইউক্রেন ১৩ জন, আলবেনিয়া ২ জন, অস্ট্রেলিয়া ২ জন, নরওয়ে ১ জন, মেসিডোনিয়া ১ জন কূটনীতিক বহিষ্কার করছে।

আইসল্যান্ড ঘোষণা দিয়েছে তারা রাশিয়ার সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করছে। তাদের রাষ্ট্রীয় নেতারা জুনে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টেও যাবে না ঘোষণা দিয়েছে।

এ মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যও জানিয়েছে তারা মন্ত্রী বা রাজপরিবারের সদস্যদের বিশ্বকাপে পাঠাবে না। অস্ট্রিয়া, গ্রীস ও পর্তুগাল জানিয়েছে, তারা তাদের দেশ থেকে কোনো রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করবে না। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে তারা।

১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান স্নায়ুযুদ্ধকালীন ৮০ জন রুশ কূটনৈতিক বহিষ্কার করেন। ২০১৬ সালে বারাক ওবামা প্রশাসন হিলারি ক্লিনটনের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা হ্যাক করার অভিযোগে ৩৫ জন কূটনীতিক বহিষ্কার করেন। তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

টিটিএন/পিআর