যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৪৬ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৯

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যাপক ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে থেরেসা মের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন বরিস জনসন।

লন্ডনের সাবেক মেয়র জনসন ৬৬ শতাংশ টরি সদস্যের সমর্থন পেয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরমি হান্টকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। দলের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্যের মধ্যে ৯২ হাজার ১৫৩ জন জনসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর জেরমি হান্ট পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৬ সদস্যের সমর্থন।

দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিজয় নিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন থেরেসা মের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা এই টরি নেতা। তিনি বলেন, ‘ব্রেক্সিট কার্যকর হবে, দেশ একত্রিত হবে এবং জেরমি করবিনকে হারানো হবে।’

johnson

গত সাত সপ্তাহ ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে কনজারভেটিভ দলের ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্য তাদের নেতা হিসেবে বরিস জনসনকেই বেছে নিলেন। দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আগামীকাল বুধবার থেরেসা মের স্থলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন তিনি।

ব্রেক্সিট নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থায় নিজ দলের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। জনসন আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, নেতা নির্বাচিত হলে আগামী অক্টোবরের বেধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে যেকেনো মূল্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন তিনি।

johnson

২০১৬ সালের গণভোটে ব্রিটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে রায় দিলে ব্রেক্সিট কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ব্রেক্সিট কার্যকরের বিষয়ে একটি চুক্তি করলেও তাতে সম্মতি দেয়নি দেশটির পার্লামেন্ট। চুক্তি পাসে ব্যর্থ থেরেসা মে গত ৭ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এদিকে থেরেসা মের মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডসহ আরও দুজন মন্ত্রী গতকাল বলেন, যদি জনসনের অধীনে কাজ করতে হয় তাহলে আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তারা পদত্যাগ করবেন কারণ জনসন চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

borisjohnson.jpg

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে মের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হতে না পারায় বছর খানেক আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন জনসন। এরপর নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত হন তিনি। দলের ভেতর বিরোধীতার মুখে পদত্যাগ করা থেরেসা মের সরকারের মেয়াদ ২০২২ সাল পর্যন্ত।

এসএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :