যুক্তরাষ্ট্রে হামলা, বন্দুকধারীর গুলিতে নিজের বোনও নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৮ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটনে বন্দুক হামলায় যে ৯ জন নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে বন্দুকধারীর নিজের বোনও রয়েছেন। ২২ বছর বয়সী ওই নারীর নাম মেগান বেটস। হামলায় প্রথমেই যে কয়েকজনের গায়ে গুলি লেগেছিল, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুক হামলা ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময় স্থায়ী হয়। ওই হামলায় আরও ২৭ জন আহত হয়েছে।

গুলির শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পরেই সেখানে উপস্থিত হয় পুলিশ। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় হতাহতদের পাশের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দুক হামলাকারীও ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। বন্দুকধারী কনর বেটস যখন হামলার পর একটি জনাকীর্ণ বারে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন, তখনই পুলিশ তাকে গুলি করে।

ডেটনের পুলিশ প্রধান রিচার্ড বিয়েল বলেন, বেটস যদি বারের দরজা দিয়ে ঢুকতে পারতেন, তাহলে ‘ব্যাপক প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে এই হামলার পেছনে কি উদ্দেশ্য ছিল তা এখনও পরিষ্কার নয়।

টেক্সাসের এল পাসোতে বন্দুক হামলার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় ওহাইওতে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তা বিয়েল জানান, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫ মিনিটে বেটস প্রথম গুলি চালান। এরপর আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চালান তিনি।

নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় নেড পেপার্স নাইটক্লাবের দরজা দিয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢুকছে লোকজন। তার কয়েক সেকেন্ড পরই বন্দুকধারী বেটসকে দেখা যায় বারের দরজার দিকে দৌড়ে যেতে। দরজার কাছে পৌঁছাতেই পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

বেটসের গায়ে বর্ম ছিল এবং তার হাতের অ্যাসল্ট রাইফেলের জন্য অতিরিক্ত গুলিও ছিল। পুলিশ প্রধান বিয়েল বলেন, ওই ব্যক্তি যদি এসব অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নেড পেপার্স বারের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারতো, তাহলে হতাহতের সংখ্যা এবং ভয়াবহতা আরও ব্যাপক হতে পারত।

পুলিশ জানিয়েছে, রাইফেলটি টেক্সাস থেকে অনলাইনে কেনা হয়েছিল। বন্দুকধারীর অতীত ইতিহাস যাচাই করে দেখা গেছে, বৈধভাবে ওই বন্দুক কেনার ক্ষেত্রে তার কোন বাধা ছিল না।

কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দুকধারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোন ধারণা করা যাচ্ছে না। বর্ণ বা জাতিবিদ্বেষ এই হামলার কারণ হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ প্রধান বিয়েল বলেন, হামলার পেছনে যে এরকম পক্ষপাতী উদ্দেশ্য রয়েছে কি তা বলার সময় এখনই নয়।

গণমাধ্যমে বন্দুকধারীর নাম প্রকাশ হওয়ার ঘণ্টা-খানেকের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, হামলাকারী ২৪ বছর বয়সী কনর বেটস। তিনি ওহাইওর বেলব্রুকের বাসিন্দা।

রোববার তার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। শুরুতে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে, বন্দুকধারীর বোনকে একটি গাড়িতে তার প্রেমিকের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে পরে পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িতে যে পুরুষের সঙ্গে ওই নারীর মৃতদেহ পাওয়া যায় গেছে সে তার সঙ্গী কি-না তা এখনও নিশ্চিত নয়।

মেয়র ন্যান হোয়েলি এই হামলা সম্পর্কে বলেন, ওই হামলাকারীর চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। ওই ঘটনার তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করছেন এফবিআই কর্মকর্তারা।

টিটিএন/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।