অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! লন্ডন-কলকাতা রুটে চলত বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২০

বর্তমান সময়ে বাস পথে সবচেয়ে দীর্ঘ রুটটি হলো ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো থেকে পেরুর রাজধানী লিমা পর্যন্ত। এর রুটের দূরত্ব প্রায় ৬ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, একসময় কলকাতা থেকে লন্ডন পর্যন্ত বাস চলাচল করত। ভারতের শহরটি থেকে ইংরেজ রাজধানীর দূরত্ব প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার।

শুনে অবাক হয়েছেন তো? কিন্তু এটি একদমই ঠিক। সুদূর লন্ডন থেকে বাস আসত কলকাতায়। সেই বাসে কলকাতায় আসতেন লন্ডনের অভিজাত ধনীরা।

সম্প্রতি এ সম্পর্কিত একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিতে দেখা যায়- লন্ডনের ভিক্টোরিয়া কোচ স্টেশনে একটি বাসে যাত্রী উঠছেন। বাসের উপরে লেখা, লন্ডন থেকে কলকাতা। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, ছবিটি হয়তো ভুয়া। কিন্তু না! ১৯৫০-এর দশকে লন্ডন থেকে কলকাতা বাস পরিষেবা ছিল।

bus

কী রকম ছিল সেই বাস পরিষেবা? তত্‍কালীন সময়ের অত্যন্ত ধনী ব্যক্তিরাই ওই বাসে উঠতে পারতেন। টিকিটের দাম ছিল ৮৫ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার টাকা)। তখনকার দিনে ৮ হাজার টাকা খুবই দামি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই বাসের টিকিটের একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে বাসের রুট।

লন্ডন থেকে বাসটি ছেড়ে প্রথমে যেত বেলজিয়াম। সেখান থেকে পশ্চিম জার্মানি, অস্ট্রিয়া, যুগোস্লোভিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্তান, পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে ভারতে ঢুকত। ভারতে ঢুকে দিল্লি, আগ্রা, এলাহাবাদ, বারাণসী হয়ে কলকাতা পৌঁছত। ৫ দিন সময় লাগত কলকাতা পৌঁছতে।

ওয়ান সাইড ট্র্যাভেলে ফুডিং, লজিংসহ সব লাক্সারি সুবিধা নিয়ে টিকিটের মোট দাম ১৪৫ পাউন্ড (বর্তমানে ১৩ হাজার ৬৪৪ টাকা)। লাক্সারি বাসটির ট্যাগ লাইন ছিল, 'Your complete home while you travel'.

bus

শাটারস্টকের আর্কাইভের একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৫৭ সালে লন্ডন থেকে কলকাতা যাত্রার সময়ে যুগোস্লোভিয়ায় একটি নদীর ধারে পিকনিক সেরে ফের বাসে উঠছেন প্রায় ২০ জনের মতো ব্রিটিশ নাগরিক।

লন্ডন-কলকাতা এই বাস পরিষেবা ১৫টি লাক্সারি ট্রিপ করেছিল বলে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]