এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার দাবি
অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। এ সময় সংগঠনের পক্ষে সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, বর্তমানে এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে লক্ষাধিক এলপিজি চালিত যানবাহনের ওপর। গাড়ির মালিক ও চালকরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে যাত্রীসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহার হয় । এর মধ্যে যানবাহন খাতে মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, অর্থাৎ মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অথচ এই পরিমাণ এলপিজি গ্যাস স্টেশনে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো অটোগ্যাস খাত আজ বিপর্যয়ের মুখে।
মো. সিরাজুল মাওলা আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) প্রতি জোরালোভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, যানবাহন খাতে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে মোট এলপিজি ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। এই ন্যূনতম সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এই শিল্প ধ্বংস হলে প্রায় দেড় লক্ষ এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। বাধ্য হয়ে তারা এলপিজি কিট খুলে অন্য জ্বালানিতে ফিরে যাবেন, যা দেশের জ্বালানি ভারসাম্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একই সঙ্গে এতে হাজার হাজার অটোগ্যাস স্টেশন মালিক ও কর্মচারী সরাসরি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এবং বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন।
মো. সিরাজুল আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকরা চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে রয়েছেন। দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বহন করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা আজ দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সংকট থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
৬ দফা দাবি দাবিসমূহ—
১. অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ বা সীমিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনের সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৪. এলপিজি আমদানি বাড়াতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর আবেদন দ্রুত অনুমোদন প্রদান।
৫. সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৬. চলমান সংকটকালে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় বিশেষ সহায়তা ও নীতিগত সুরক্ষা প্রদান।
এনএস/এমএমকে/এএসএম