ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ‘হামলায়’ প্রতীকী মার্কিন রণতরী ডুবল না কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৩ এএম, ০৩ আগস্ট ২০২০

গেল ২৮ জুলাই হরমুজ প্রণালীতে একটি হেলিকপ্টার থেকে একটি প্রতীকী মার্কিন রণতরী লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আইআরজিসির বিমান ও নৌ সদস্যরা দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের ওপর হামলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে স্পিডবোট চলাচল করছে, তীর থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হচ্ছে এবং হেলিকপ্টার থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ মহড়ায় মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্ট সাম্প্রতিক উত্তেজনাকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেখা যায় প্রতীকী মার্কিন রণতরীটি ডোবেনি। এরপর প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি ইরানের পক্ষে মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেয়া সম্ভব নয়? নানা মহল থেকে এমন প্রশ্ন ওঠার পর রোববার এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামেজান শারিফ।

তিনি বলছেন, একই মাত্রার হামলায় ডামি রণতরীর তুলনায় আসল রণতরী অনেক বেশি ক্ষতির শিকার হয়। কারণ, ডামি যুদ্ধজাহাজে কোনো কিছু বহন করা হয় না। কিন্তু আসল রণতরীতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানীসহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থ থাকে। ফলে একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ধাক্কা সামলানো এসব রণতরীর পক্ষে সম্ভব হয় না বরং এ ধরনের হামলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

জেনারেল শারিফ মার্কিন রণতারীর ডামি ধ্বংস না হওয়ার আরো একটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডামি রণতরী হলেও এটি তৈরি করতে প্রচুর অর্থ খরচ হয়েছে যা একটি হামলায় ডুবিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা শুরু থেকেই আইআরজিসির ছিল না। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো বহু মহড়ায় ব্যবহার করার জন্য কল্পিত রণতরীটি অক্ষত রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সূত্র : পার্স টুডে।

ইরানের ওই সামরিক মহড়াকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বেপরোয়া আচরণ’ মন্তব্য করে কঠোর সমালোচনা করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। তারা এটিকে ইরানের জোর করে ভয় দেখানোর চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে।

উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিট অবস্থান করছে।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিরিয়ার আকাশসীমায় ইরানের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা মাহান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমানকে মার্কিন যুদ্ধবিমান তাড়া করেছিল বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যার দিকে বিমানটি সিরিয়ার তাল আন্ফ অঞ্চলে পৌঁছালে এর কাছাকাছি বিপজ্জনক মহড়া চালায় দু’টি যুদ্ধবিমান। এ অবস্থায় সংঘর্ষ এড়াতে ইরানি পাইলট হঠাৎ যাত্রীবাহী বিমানটির উচ্চতা কমিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন। এসময় ঝাঁকিতে বেশ কয়েক যাত্রী আহত হন। প্রথমে যুদ্ধবিমান দু’টি ইসরায়েলের বলে দাবি করলেও পরে এর অন্তত একটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে জানায় তেহরান।

ওই দিন সিরিয়ার আকাশে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের মহড়ার কথা স্বীকার করলেও সেটি ইরানি বিমানের থেকে নিরাপদ দূরত্বে ছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এনএফ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]