মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও যুক্তরাষ্ট্রের গণহত্যার স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪৯ পিএম, ২২ মার্চ ২০২২

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। হত্যা করে নারী শিশুসহ বহু রোহিঙ্গা মুসলিমকে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেটিকে এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিধন বলে অ্যাখ্যা দেয় সে সময়।

সে বছর ২৫ আগস্ট রাতে প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে। আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। সে সময় বাংলাদেশ সরকার উদারতার পরিচয় দিয়ে অসহায় মানুষগুলোকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়। টানা কয়েক মাসে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। নারী-শিশুসহ এখন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে বাংলাদেশে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও যুক্তরাষ্ট্রের গণহত্যার স্বীকৃতি

এতো মানুষের আবাস, খাদ্য চাহিদা মেটাতে হিমশিম অবস্থা বাংলাদেশের। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রয়েছে হাজার হাজার অধিকার বঞ্চিত শিশু। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের সব ধরণের চাহিদা পূরণের। তবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কাজ করছে তাদের জন্য। বারবার বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর চেষ্টা করলেও সাড়া নেই মিয়ানমার সরকারের। নিজ দেশে ফিরতে না পেরে অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিমরা।

গত কয়েক বছর ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালন করলেও এবার সেই নিরবতা ভাঙলো যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতাকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে স্বীকৃতি দিলো যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন স্থানীয় সময় সোমবার (২১ মার্চ) মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের এ ঘোষণা দিলেন।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও যুক্তরাষ্ট্রের গণহত্যার স্বীকৃতি

ওয়াশিংটন ডিসিতে হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হলোকাস্ট (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের ওপর গণহত্যা) ছাড়াও বিশ্বে সাতটি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ, সোমবার অষ্টম গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়া হলো। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন বলে আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।

নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা চলছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করার উদ্যোগ নেয় আফ্রিকার গাম্বিয়া। ২০১৯ সালে মামলাটির প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও যুক্তরাষ্ট্রের গণহত্যার স্বীকৃতি

জাতিসংঘের একটি ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন’ ২০১৮ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কাজ’ অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে ধরা হয়। তখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

মিয়ানমার একটি বৌদ্ধপ্রধান দেশ। দেশটির সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের ২০১৪ সালে আদমশুমারি থেকেও বাদ দেওয়া হয়।

সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা

এসএনআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।