অবৈধ সম্পদ অর্জন: পি কে হালদারের পরবর্তী হাজিরা ২৮ মার্চ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
পি কে হালদার/ ফাইল ছবি

ধৃমল দও, কলকাতা

বাংলাদেশের কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের দায়ে ভারতে গ্রেফতার পি কে হালদারসহ ছয়জনকে ২৮ মার্চ আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার নগর দায়রা আদালত।

১২ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত (জুডিশিয়াল কাস্টডি) শেষে বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হয়। এসময় স্পেশাল সিবিআই কোর্ট-৩ এর বিচারক শুভেন্দু সাহা এ আদেশ দেন।

এদিন স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় অভিযুক্তদের আদালতে আনা হয়। দুপুর ১টার দিকে তাদের স্পেশাল সিবিআই কোর্ট-৩ এর বিচারক শুভেন্দু সাহার এজলাসে তোলা হয়। এরপর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে বিচারক মামলার পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য করেন।

যদিও আগামীকাল শুক্রবার দুপুর তিনটায় পি কে হালদারের ভাই ও মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রাণেশ কুমার হালদারের জামিন আবেদনের শুনানির সময় ধার্য করেছেন বিচারক। সেক্ষেত্রে অভিযুক্তদের আদালতে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।

আজ মূলত প্রাণেশ কুমার হালদারের জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানি হয়। আদালতে প্রাণেশ কুমার হালদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মিলন মুখার্জি। তবে প্রাণেশের জামিনের বিরোধিতা করেন ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী। দুপক্ষের শুনানি শেষে শুক্রবার এ বিষয়ে আরও শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন বিচারক।

প্রাণেশ কুমার হালদারের আইনজীবী অভিজিৎ মান্না জানান, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যা বলবে সবসময় তা সত্যি নাও হতে পারে। আমাদেরও তো কিছু বলার থাকতে পারে, আমরা তো এই প্রথম মুভ করেছি। ইডি যে সম্পত্তির কথা বলছে সেগুলি কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে এসেছে- সবই আমরা আদালতে তুলে ধরবো।

এ বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পক্ষের আইনজীবী অরজিৎ চক্রবর্তী বলেন, জামিনের জন্য আসামির পক্ষ থেকে যেসব তথ্য রাখা হয়েছিল, সেখানে আমাদের চেষ্টা ছিল এসব আসামির সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আসা টাকার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে- এটা দেখানো।

নির্দিষ্ট অভিযোগের গত বছরের ১৪ মে পি কে হালদারসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে ইডি। এরপর তাদের আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে তিনদিনের এবং পরে আরও ১০ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

ইডি এরই মধ্যে তাদের কাছ থেকে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা, বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ও মোবাইল উদ্ধার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এ পর্যন্ত ৮৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ৪০টি স্থাবর সম্পত্তি, ৬০ কোটি টাকার ব্যাংক আমানতের প্রমাণ এবং মালয়েশিয়াতে সাতটি বাড়ির হদিস পায় ইডি।

গত বছরের ১১ জুলাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কলকাতার আদালতে চার্জশিট জমা দেয় ইডি। অর্থ পাচার সংক্রান্ত আইন-২০০২ এবং দুর্নীতি দমন আইন-১৯৮৮ এর ধারায় করা মামলায় ওই ছয় অভিযুক্তের নামে চার্জ গঠন করা হয়।

বর্তমানে অভিযুক্ত পি কে হালদারসহ পাঁচজন আছেন প্রেসিডেন্সি কারাগারে। অন্যদিকে একমাত্র নারী অভিযুক্ত রয়েছেন আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে।

কেএসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।