ইউক্রেনে আর নয়, ওয়াগনার বাহিনীর গন্তব্য এবার ‘আফ্রিকা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ২০ জুলাই ২০২৩
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে আর নয়, এবার আফ্রিকায় লড়াইয়ের জন্য যোদ্ধাদের প্রস্তুত হতে বললেন ওয়াগনার বাহিনীর প্রধান ইভজেনি প্রিগোজিন। গত বুধবার (১৯ জুলাই) টেলিগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে যোদ্ধাদের এই নির্দেশনা দেন রুশ ভাড়াটে বাহিনীর প্রধান।

গত মাসে সশস্ত্র বিদ্রোহের পর থেকে এই প্রথমবার প্রিগোজিনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেলো ভিডিওটির মাধ্যমে। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, স্বাগতম ছেলেরা... বেলারুশের মাটিতে স্বাগতম।

আরও পড়ুন>> কারা এই ওয়াগনার গ্রুপ?

ওয়াগনার প্রধান বলেন, আমরা সম্মানজনকভাবে লড়েছি। আপনারা রাশিয়ার জন্য অনেক কিছু করেছেন। সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্রে যা ঘটছে, তা লজ্জাজনক। এর সঙ্গে আমাদের জড়ানোর দরকার নেই।

গত ২৩-২৪ জুন প্রিগোজিনের ভারী সমরাস্ত্রে সজ্জিত যোদ্ধারা বিদ্রোহের পর রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ-ডন-অন শহর এবং ওই অঞ্চলের সামরিক কমান্ড সেন্টার দখল করে নেয়। এরপর বিশাল সামরিক বহর নিয়ে মস্কোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিল তারা। একপর্যায়ে রাশিয়ার রাজধানী শহরের ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেও পৌঁছে যায় ওয়াগনার বাহিনী। প্রিগোজিনের ভাষ্যমতে, এটি ছিল ‘ন্যায়ের জন্য অভিযান’, যার লক্ষ্য ‘অযোগ্য’ রুশ শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করা।

আরও পড়ুন>> বিদ্রোহ করেছে ওয়াগনার গ্রুপ, পুতিনকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি

সেসময় ওয়াগনারের বিদ্রোহকে কঠোরহস্তে দমন করার অঙ্গীকার করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তার মিত্র বেলারুশিয়ান প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি হলে অভ্যন্তরীণ লড়াই থেকে রক্ষা পায় রাশিয়া।

jagonews24

চুক্তি অনুসারে, প্রিগোজিন ও তার যোদ্ধারা ওয়াগনার বাহিনীর সব কার্যক্রম বেলারুশে সরিয়ে নেবেন। অবশ্য এ মাসের শুরুর দিকে লুকাশেঙ্কো জানান, প্রিগোজিন বেলারুশ সফর শেষে রাশিয়ায় ফিরে গেছেন। আর গত সপ্তাহে নিশ্চিত করা হয়, ব্যর্থ বিদ্রোহের কয়েকদিন পরেই পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন ওয়াগান প্রধান।

আরও পড়ুন>> যে চুক্তিতে মসনদ বাঁচলো পুতিনের

বুধবারের ভিডিওতে প্রিগোজিনকে বলতে শোনা যায়, বেলারুশের স্থানীয় লোকদের সঙ্গে যেন যোদ্ধারা ভালো আচরণ করেন এবং আফ্রিকার জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখেন।

তিনি বলেন, সম্ভবত আমরা কোনো এক পর্যায়ে এসএমও’তে (ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান) ফিরবো, যখন নিশ্চিত হতে পারবো যে, আমাদের আর লজ্জা পেতে হবে না।

আরও পড়ুন>> ওয়াগনারের ভয়ে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে পোল্যান্ড

২০১৮ সাল থেকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, লিবিয়া, মালিসহ বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে কাজ করছে ওয়াগনার বাহিনী। গত সোমবার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুলাইয়ের গণভোট সুরক্ষিত করতে সহায়তা করার জন্য কয়েক ডজন ওয়াগনার যোদ্ধা দেশটিতে পৌঁছেছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।