মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পরিকল্পনা বিরোধীদের
মণিপুর ইস্যুতে সংসদ অচল রেখেও কাজ হয়নি। তাই এবার মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে ভারতের বিরোধী জোট।
বিরোধীদের দাবি ছিল, মণিপুর নিয়ে সংসদে বিতর্ক করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিবৃতি দিতে হবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মণিপুর নিয়ে তারা বিতর্কে রাজি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দেবেন না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিতর্কের জবাব দেবেন।
আরও পড়ুন>ভারতের নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় চাল নিয়ে কাড়াকাড়ি
বিরোধীরা তা মানতে চাননি। বিরোধী মানে হলো ২৬ দলের ‘ইন্ডিয়া’ জোট। যেখানে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম, ডিএমকে, জেডিইউ, জেএমএম, এনসিপি, আরজেডি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপির মতো দল রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, এত তড়িঘড়ি করে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা হলো তাদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। পাশাপাশি মোদী-শাহের কৌশল ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশ্য। আসলে বিরোধীরা সংসদ অচল করে রাখার পর মোদী-শাহ ঠিক করেছেন, এবার সরকার তাদের বিলগুলো হইচইয়ের মধ্যে পাশ করিয়ে নেবে।
এবার সংসদে ৩১টি বিল পাস করাতে চায় সরকার। তার মধ্যে দিল্লি নিয়ে বিতর্কিত অর্ডিন্যান্সকে আইনে পরিণত করা সংক্রান্ত বিল আছে। যে অর্ডিন্যান্সে উচ্চপদস্থ আমলা নিয়োগের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাত থেকে নিয়ে লেফটন্যান্ট গভর্নর বা এলজি-কে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন>ভারতের নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় চাল নিয়ে কাড়াকাড়ি
আম আদমি পার্টির অনুরোধ মেনে ইন্ডিয়া জোটের সব বিরোধী দল ঠিক করেছে, এই অর্ডিন্যান্স সংক্রান্ত বিলের বিরুদ্ধে তারা একজোট হয়ে ভোট দেবে। এই বিল তারা সর্বশক্তি দিয়ে রোখার চেষ্টা করবে। লোকসভায় তারা সংখ্যালঘু। কিন্তু রাজ্যসভায় তারা এর বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে সরকারকে চাপে রাখতে চাইছে।
এই অবস্থায় অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনাস্থায় বিরোধীদের প্রধান বিষয়ই হবে মণিপুর। অনাস্থা প্রস্তাব আনলে আগে তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে। তখন মণিপুর নিয়ে বলতে বাধ্য হবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, বিরোধীরা জোটের নাম দিয়েছে ইন্ডিয়া, তাতে কোনো লাভ নেই। এর আগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ‘ইন্ডিয়া’ নাম দিয়ে ভারতকে শোষণ করেছে। ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের নামেও ‘ইন্ডিয়া’ আছে। তাই ইন্ডিয়া নাম দিলেই কেউ ভালো হয়ে যায় না বা বাড়তি গুরুত্ব পায় না। ফলে ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণটা এই দিক থেকেই আসবে বলে মনে করছেন বিরোধী নেতারা।
তাছাড়া বিরোধী সংসদ সদস্যদের একাংশ রাতভর গান্ধীমূর্তির সামনে ধরনা দিয়েছেন। এটা ছিল মণিপুর নিয়ে বিরোধী বিক্ষোভের অংশ। প্রায় প্রতিদিন সকালেও গান্ধীমূর্তির সামনে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলোর সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে, এনডিটিভি
এমএসএম