চন্দ্রাভিযান ব্যর্থ হওয়ায় হাসপাতালে রুশ বিজ্ঞানী
রাশিয়ার পাঠানো চন্দ্রযান লুনা-২৫ শনিবার (১৯ আগস্ট) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাঁদেই বিধ্বস্ত হয়েছে। ৪৭ বছর পর চাঁদে পাঠানো এ মহাকাশযান বিধ্বস্ত হওয়ায় খবর শুনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই মিশনের নেতৃস্থানীয় পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী মিখাইল মারোভ (৯০)। পরে তাকে মস্কোর সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, শনিবার চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের সময় কক্ষপথ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় লুনা-২৫ নিয়ন্ত্রণ হারায় ও পরে বিধ্বস্ত হয়। রোববার রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস এ তথ্য প্রকাশ করে। এ ঘটনার পর রাশিয়ার মহাকাশ শক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। আর এর কয়েক ঘণ্টা পরেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মিখাইল।
এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী সংবাদমাধ্যম আরবিসি ও মস্কোভস্কি কমসমোলেতসকে বলেন, আমি কেন চিন্তিত হবো না? এই চন্দ্রাভিযান আমার জন্য বিশাল ব্যাপার ছিল। মিশনটি ব্যর্থ হওয়ায় আমার জীবনকে অর্থহীন বলে মনে হচ্ছিল। এসব চিন্তা থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছি।
১৯৭৬ সালে চাঁদে মহাকাশযান পাঠিয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। এর নাম ছিল লুনা-২৪। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর লুনা-২৫ ছিল রাশিয়ার প্রথম চন্দ্রাভিযান।
সোভিয়েত ইউনিয়নের ওই মহাকাশ অভিযানেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মিখাইলের। তবে লুনা-২৫ মিশনকে তিনি তার কাজের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু মিখাইলের মতে, মিশনটি ব্যর্থ হওয়ায় রুশ চন্দ্রাভিযানের পুনরুত্থান দেখার শেষ আশা স্বপ্নই থেকে গেলো।
এ চন্দ্রযান বিধ্বস্ত হওয়া রসকসমসের জন্য একটি বিশাল ক্ষতি বলে দাবি করা হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা কিংবা ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি ইসা’র তুলনায় পিছিয়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বাজেটের বিশাল একটি অংশ শুধু সামরিক খাতে ব্যয় করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুনা-২৫ অভিযানের ব্যর্থতা থেকে এটা পরিষ্কার যে, রাশিয়ার মহাকাশ শক্তি ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে। এক সময় মহাকাশ অভিযানে সোভিয়েত আমলের রাশিয়ার যে বিশাল ভূমিকা ছিল, তা এখন পতনের দিকে।
সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট, বিবিসি
এসএএইচ/টিটিএন