লঞ্চে বাদাম বিক্রেতা সেই দুলাল এখন কাউন্সিলর


প্রকাশিত: ০১:৩৯ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

ঝালকাঠি থেকে ঢাকা, বরগুনা, পাথরঘাটা, বামনা গামী লঞ্চে ফেরি করে বাদাম ও পান বিক্রি করা সেই দুলাল এখন কাউন্সিলর।

গত ২০ মার্চ ঝালকাঠি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কমিশনার শাহজাহান সিকদারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫৪ ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হয়েছেন।

দুলাল হাওলাদার ডালিম প্রতীকে পান ৭৫৮ ভোট। শাহজাহান সিকদার পানির বোতল প্রতীকে পান ৭০৪ ভোট।

দুলাল হাওলাদারের জন্ম ১৯৭৪ সালে ঝালকাঠির কৃষ্ণকাঠিতে। বাবার নাম মো. আব্দুল খালেক হাওলাদার। ১৪ বছর বয়সেই বাবাকে হারায় দুলাল। এরপর পরিবারে নেমে আসে অভাব। ৪ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে দুলাল তৃতীয়। অভাবের চাপে বেশি পড়াশুনা করতে না পেরে সেই থেকেই লঞ্চে বাদাম ও পান ফেরি করে বিক্রি করতো। ২ বছর পরে ১৬ বছর বয়সে নৌকায় শ্রমিকের কাজ করে ৮ হাজার টাকা জমাতে সক্ষম হয়। সেই ৮ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করেন গাছের ব্যবসা।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পল্লী বিদ্যুতের এক ঠিকাদারের গাছ সরবরাহের দায়িত্ব পান দুলাল। গাছ সরবরাহ করে ব্যবসার টাকা থেকে একটি পরিত্যক্ত মিল ভাড়া নেন তিনি। এ থেকে গাছের ব্যবসা করায় এলাকায় তিনি “গাছ” দুলাল হিসেবে খ্যাতি পান।

পাশাপাশি জমি বেচা-বিক্রির ব্যবসা করে তিনি সমাজের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে গরীব দুঃখী মানুষের সেবা করার কাজও করেন। এরপর চলতে থাকে বিভিন্ন অফিসের ঠিকাদারী ব্যবসা। বর্তমানে তিনি ইট, বালু, পাথরের ব্যবসা করার নিজেই একটি মালবাহী কার্গো (জলযান) ক্রয় করে ব্যবসা পরিচালনা করেন।

এ ব্যাপারে কথা হয় দুলাল হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই চিন্তাচেতনা ছিলো ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। আল্লাহর দয়াই ব্যবসার শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোনো হোঁচট খেতে হয়নি। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগিদার হয়ে সবসময়ই তাদের পাশে ছিলাম এবং থাকবো।

আতিক/ এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।