কর ফাঁকির নথি ফাঁস : আইসল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ


প্রকাশিত: ০৩:০১ এএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৬

অবশেষে পদত্যাগ করলেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর গুনলাউগসন। অফশোর একাউন্ট খুলে তিনি কর ফাঁকি দিয়েছেন এমন খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দেশে বিক্ষোভ চলছিল। পানামার ল ফার্ম ‘মোসাক ফনসেকার’ ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে বলা হয়েছে, গুনলাউগসন এবং তার স্ত্রী ‘উইনট্রিস’ নামের একটি অফশোর কোম্পানির মালিক। তিনি এবং তার পরিবার সম্পদের পরিমাণ গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। জনগণের বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। খবর বিবিসির।

তবে গুনলাউগসন তার বিরুদ্ধে আনা সব অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কর ফাঁকির গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বের ক্ষমতাধর রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ীরা ব্যাপক চাপের মুখে পড়েন। এদের মধ্যে তিনিই প্রথম পদত্যাগ করে সরে দাঁড়ালেন।

অর্থ পাচারের তালিকায় নাম থাকা ৮শ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া । তদন্ত শুরু হয়েছে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও পানামায়। এ ঘটনায় একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর ফাঁকি দেওয়াকে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন।পানামা পেপার্স নামে পরিচিতি পাওয়া গোপন দলিলপত্রকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যাপক গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনা বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ক্ষমতাধর রাজনীতিক থেকে শুরু করে নামকরা ফুটবল তারকা, ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী অনেকের কর ফাঁকি এবং সম্পদ গোপনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে এসব দলিলপত্রে। পানামার একটি লিগ্যাল ফার্ম ‘মোসাক ফনসেকা’ থেকে এসব গোপন দলিল ফাঁস হয়ে যায়। গোপন নথিতে জানানো হয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্বজন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠজন, ফুটবল তারকা মেসি, ভারতের চলচ্চিত্র তারকা অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনসহ দেশটির আরো ৫শ জন কর ফাঁকির সঙ্গে জড়িত। এদিকে পানামা পেপার্সে ইসরায়েলের দুটি ব্যাংকসহ ৬শ প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে।

যে ৫শ ভারতীয়র নাম কর ফাঁকির তালিকায় উঠে এসেছে তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ বিষয়ে অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন বলেন, যে চারটি জাহাজ কোম্পানির পরিচালক হিসেবে তার নাম এসেছে সেগুলোকে তিনি চেনেনই না। এসব প্রতিষ্ঠানে তার নাম ভুলভাবে এসেছে বলে তার ধারণা। তিনি জানান , তার প্রদেয় সব কর তিনি পরিশোধ করেছেন। অপরদিকে অমিতাভের পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রাইয়ের উপদেষ্টা তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা বলেছেন।

মোসাক ফনসেকার ওই ১ কোটি ১৫ লাখ নথি জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতংয়ের হাতে আসলে তারা ওই নথিগুলো ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয়। তাদের এক বছরের অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে কর ফাঁকির এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ওই নথি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সমর্থকরা এ ঘটনাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন ষড়যন্ত্র বলে বর্ণনা করেছেন।

ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র বলেন, যে সাংবাদিকরা এই গোপন দলিল নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে তাদের অনেকেই সিআইএ বা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের প্রয়াত বাবাও একটি অফশোর কোম্পানি স্থাপন করেছিলেন। ওই কোম্পানী ত্রিশ বছর ধরে ব্রিটেনে কোন কর দেয়নি বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এই কোম্পানিতে ক্যামেরুনের কোন শেয়ার নেই। কিন্তু কর ফাঁকির এই প্রবণতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের ওপর চাপ বাড়ছে।

টিটিএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।