২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হলো যাদের
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যাসহ অন্যান্য অপরাধ এবং গুম-খুনের ঘটনায় বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এরই মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আদালত অবমাননার দায়ে শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আদালত অবমাননার ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তাকে সতর্ক করেছেন আদালত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৩০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেককে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে ৮০ জনেরও বেশি কারাগারে। বাকিরা পলাতক।
আরও পড়ুন
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
২৮ জানুয়ারির মধ্যে ময়মনসিংহে তিন হত্যার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি
এছাড়া শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

নিজের গড়া ট্রাইব্যুনালে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে শেখ হাসিনা ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। এর ১৫ বছর পর সেই আদালতেই শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাজসাক্ষী হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তথ্য দিয়ে আদালতকে সহযোগিতা করায় পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগই বিচারে প্রমাণিত হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযোগকে আদালত একসঙ্গে গ্রহণ করে। এই অভিযোগে হাসিনা ও কামাল আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগকে একীভূত করে এ অভিযোগে হাসিনা ও কামালের ফাঁসির আদেশ হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগে অনেক সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের ফাঁসির নজির থাকলেও বাংলাদেশে এটাই প্রথম রায়। শেখ হাসিনা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীই নন, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সভাপতি, দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানেরও মেয়ে। এরকম একজন ব্যক্তির বিচার ও ফাঁসির রায় ঘোষণা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
আরও পড়ুন
আমরা নির্দোষ, ন্যায়বিচার চাই: ট্রাইব্যুনালে দুই সেনা কর্মকর্তা
চানখাঁরপুলে ৬ হত্যা: ট্রাইব্যুনালের রায় ২০ জানুয়ারি
রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যা: বিজিবি কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিচার শুরু
এ বিচার কার্যক্রম সরাসরি টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই পলাতক হাসিনা ও কামাল। তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার হয়। যে অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে তারা আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছেন, সেই অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশন এরই মধ্যে আপিল করে। দণ্ড থেকে খালাপ চেয়ে সাবেক আইজিপি মামুনও আপিল করেন।

অবমাননাকর বক্তব্যে শেখ হাসিনার ৬ মাসের দণ্ড
আদালত অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় গত ২ জুলাই শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার অন্য আসামি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুল ওরফে মো. শাকিল আলমকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওইদিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মামলায় শেখ হাসিনার কারাদণ্ড হলো। কয়েক মাস আগে ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’—এমন একটি অডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওর এ বক্তব্য শেখ হাসিনার উল্লেখ করে হাসিনা ও শাকিল আকন্দ বুলবুলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার মামলা করে প্রসিকিউশন। সেই মামলায় চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হলো।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনার তর্কিত যে কনভারসেশন, সেটি পুলিশের সিআইডির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তারা পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিয়েছে, এখানে যে দুজন ব্যক্তির কনভারসেশন, তার একজন শেখ হাসিনা ও অন্যজন শাকিল আকন্দ বুলবুল। কনভারসেশনটি এআই জেনারেটেড নয়। অর্থাৎ প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়নি। এটি জেনুইন একটি কনভারসেশন।
আরও পড়ুন
ডিএমপির হাবিবুরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল
শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে
হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, আদালত সবার আর্গুমেন্ট শুনে, সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে তর্কিত এই কনভারসেশনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী, সাক্ষী, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ যারা এ বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তাদের হত্যা করা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নানাভাবে তাদের হুমকি দিয়েছেন।
ফজলুর রহমানকে সতর্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জেরে গত ২৬ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। এর জেরে বিএনপির এই নেতাকে ৮ ডিসেম্বর সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন ট্রাইব্যুনাল। ৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চান ফজলুর রহমান। শুনানি শেষে তাকে সতর্ক করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
গুমের ঘটনায় বিচার শুরু
আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও র্যাব পরিচালিত দুটি বন্দিশালায় গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনা; সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ২৮ জন আসামি। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, এই সামরিক কর্মকর্তারা র্যাব ও ডিজিএফআইয়ে দায়িত্ব পালনের সময় সেখানে গোপন বন্দিশালা গড়ে তোলেন। রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডে পুরাতন অস্ত্রাগার সংলগ্ন দ্বিতল ভবনে ছিল টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল।
সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরের পেছনে ছিল জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসির অবস্থান, সেটি আয়নাঘর নামেও পরিচিত। জেআইসিতে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিচার শুরু হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সেই সঙ্গে এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।
এই মামলার ১৭ আসামির মধ্যে গ্রেফতার ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম এবং কে এম আজাদ; কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে); লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
এই মামলায় পলাতক সাত আসামি হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
রামপুরায় ২৮ জনকে গুলি করে হত্যায় বিচার শুরু
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামিপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে ছয়টি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
গত ২৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এ মামলার চার আসামির মধ্যে গ্রেফতার সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম মুন ঘটনার সময় বিজিবিতে ছিলেন। বাকি দুই আসামি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক।
শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যা
গুম, খুনের অন্য একটি মামলায় আসামি হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
পলকের সঙ্গে জয়ও আসামি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু ওই মামলায় অভিযোগেরে ভিত্তিতে আসামিদের আলাদা করে পৃথকভাবে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মামলাটিও আলাদা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তিনি এখন ফেরারি আসামি। এই মামলার অন্য আসামি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
পলাতক জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।
কাদের, আনিসুল, সালমান, ইনু ও পলকের বিচার শুরু
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ২ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিচার শুরু হয়। গত ১ ডিসেম্বর থেকে প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক, শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য গ্রহণ করেন আদালত। মামলা দুটির বিচার শেষ পর্যায়ে।
এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকেও বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন
হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়েছে। গত বছরের ৮ মে সরকারের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রাপ্ত অভিযোগ ও অভিযুক্তের সংখ্যা, দ্রুত বিচার-নিষ্পত্তির প্রয়োজন, কাজের চাপ ইত্যাদি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
ট্রাইব্যুনালের সদস্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং মাদারীপুরের জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এরপর ১৬ জুন জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওইদিন সকালে রাজধানীর পুরাতন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি ও বিচারকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়।
এফএইচ/এমএমএআর/এমএফএ/জেআইএম