জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে রোববার (২৯ মার্চ) প্রসিকিউশন আদালতে সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার।
প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানান, সাক্ষী ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেননি। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন।
এ মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ১০৪ জনকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়।
এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের মতে, ২০০৯-২০১৬ সময়কালে জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং এডিজি (অপস্) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসময়ে অসংখ্য বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশ নেন। অগণিত হত্যাকাণ্ড, গুমসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সরাসরি নির্দেশ, অনুমোদনক্রমে, জ্ঞাতসারে তার বিশ্বস্ত র্যাব সদস্যরা সংঘটন করতেন।
প্রসিকিউশন সূত্র মতে, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর অবস্থায় র্যাবে পোস্টিং পাওয়ার পর থেকে আসামি জিয়াউল আহসান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরের আগ পর্যন্ত তাকে কখনোই সেনাবাহিনীতে ফেরত যেতে হয়নি।
শেখ হাসিনার পুরো শাসনামলে জিয়াউল আহসান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী বা সংস্থায় কাজ করেছেন। পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কোর্স বা প্রশিক্ষণ না নিয়ে এবং কোনো ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফর্মেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি মেজর জেনারেল পর্যন্ত পদোন্নতি পান, যা সেনাবাহিনীর গৌরবময় পেশাদারত্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
এফএইচ/এমকেআর