আবু সাঈদের দেহে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া এক আসামিকে হাজতবাসের পর মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়াই আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, বলা হচ্ছে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে তার দেহে বা গেঞ্জিতে গুলির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি গুলিতে নিহত হলে দেহ বা গেঞ্জিতে রক্তের দাগ বা ছিদ্র থাকতো, জব্দ করা গেঞ্জিতে এর কোনো আলামত প্রসিকিউশন দেখাতে পারেনি।
আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে আবু সাঈদের দেহে বা গেঞ্জিতে কোনো গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার ডেথবডিতেও কোনো ক্ষতের চিহ্ন ছিল না এবং এক্স-রে বা অন্যান্য পরীক্ষাও করা হয়নি। ফলে, গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই আমরা রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে করা আপিলে যুক্তি-তর্ক ও প্রমাণ উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২ বোর শর্টগানের কার্ট্রিজ ব্যবহার করে গুলি করার অভিযোগ আনা হলেও সেই কার্ট্রিজ জব্দ করা হয়নি। কোনো মেডিকেল সাপোর্ট ছিল না। এ বিষয়ে তারা আদালতে একাধিক পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।
এ আইনজীবী বলেন, আসামিপক্ষ থেকে আদালতে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে লিখিত যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রত্যাশিত খালাস না পাওয়ায়, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে। আশা করছি, আপিল শুনানির মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।
এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেফতার আছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।
আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এফএইচ/এমএএইচ/