কুকি-চিনের পোশাক জব্দের মামলা: জালিয়াতি করে কারামুক্তি তদন্তের নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৯ এএম, ০১ মে ২০২৬
ফাইল ছবি

হাইকোর্টে তথ্য গোপন ও জামিন আদেশে জালিয়াতি করে সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য তৈরি ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলার প্রধান আসামি সাহেদুল ইসলাম (২৫) কারামুক্ত হয়েছেন। ওই ঘটনা তদন্তের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নজরে আনার পর বুধবার (২৯ এপ্রিল) অভিযোগ আমলে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে এ তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। একই সঙ্গে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে। এরই মধ্যে তদন্তকাজ শুরুর পর কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে নেওয়া জামিন আদেশে থাকা দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর তা বদলে ফেলা হয়। বদলে ফেলা ওই জামিন আদেশ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে বসানো হয় নতুন করে মামলার নম্বর ও থানার নাম। পরে সেটি দাখিল করা হয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।

কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া জামিন আদেশের ভিত্তিতেই কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিনের’ ২০ হাজার পোশাক জব্দের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলার আসামি সাহেদুল ইসলাম। যিনি চট্টগ্রামের ‘রিংভো অ্যাপারেলসের’ মালিক।

সাত মাস আগে উচ্চ আদালতে তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ পেয়েছে চলতি সপ্তাহে। মামলার আরেক আসামি উচ্চ আদালতে জামিন নিতে এসে ওই আসামির জামিন পাওয়ার  তথ্য উপস্থাপন করারপর বিষয়টি প্রকাশ পায়।

এরপরই চাঞ্চল্যকর এই জামিন জালিয়াতির ঘটনা সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল। 

কোর্ট প্রশাসন সূত্র বলছে, এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত কি না, তারও তদন্ত হচ্ছে।

তবে আইনজীবীরা বলছেন, এত বড় জালিয়াতি বেঞ্চ কর্মকর্তা বা শাখার কর্মকর্তা ছাড়া সম্ভব নয়। অতএব ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে এ জামিন জালিয়াতি চক্রকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

এ প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেছেন, তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির ঘটনা সত্য। তদন্ত চলছে। আপনারা দ্রুতই তদন্তের অগ্রগতি জানতে পারবেন।

২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানা রিংভো অ্যাপারেলসের গুদাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের’ (কেএনএফ) সদস্যদের জন্য তৈরি করা ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে এ ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি এসব পোশাক প্রস্তুতের ক্রয়াদেশ দেওয়া গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দারকেও (৩৯) আসামি করা হয়।

এফএইচ/এমকেআর

 
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।