এভারকেয়ারে চিকিৎসার জন্য ‘ভুয়া’ সার্টিফিকেট, কামরুলের বিষয়ে আদেশ বাতিল
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী মো. কামরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতালের নামে অন্য হাসপাতালের মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে আদেশ নেওয়ায় সেই আদেশ বাতিল করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
জানা গেছে, চিকিৎসার বিষয়ে ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট বানিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আদেশ নিয়েছিলেন কামরুল ইসলাম।
কারা কর্তৃপক্ষের সন্দেহের ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আসে। প্রসিকিউশন খতিয়ে দেখে আদালতকে বিষয়টি অবহিত করে। এ ঘটনায় আদালত আসামিপক্ষকে ভর্ৎসনা করে। পরে এভারকেয়ার হাসাপাতালে চিকিৎসা প্রদানের বিষয়ে আগের দেওয়া আদেশ বাতিল করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।
প্রসিকিউশন সূত্র মতে, এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসামিপক্ষের আবেদনে দাখিল করা মেডিকেল রিপোর্ট দেখলে মনে হবে বারডেম হাসপাতালের, অথচ সেটি কামরাঙ্গীরচরের একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকের।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর কামরুল ইসলাম গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হলে আদালতের নির্দেশনায় তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
এর মধ্যে কামরুলের চিকিৎসার জন্য আরেকটি আবেদন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার কথা ছিল। আসামিদের চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদনগুলো প্রসিকিউশন থেকে মানবিক বিবেচনায় দেখা হয় বলে সাধারণত জোরালো বিরোধিতা করা হয় না। এভাবেই বিষয়টিতে ৯ এপ্রিল আদালত আদেশ দিয়েছেন, যাতে তাকে এভারকেয়ার হাসাপাতালে চিকিৎসা দিতে বলা হয়।
বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আদালতে জানান, আসামির যে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এভারকেয়ারে চিকিৎসা দিতে আদালত আদেশ দিয়েছিল, সেই আবেদনে দাখিল করা মেডিকেল সার্টিফিকেটটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কামরুল ইসলামের নির্বাচনি এলাকা কামরাঙ্গীরচরের একটি ক্লিনিকের এক চিকিৎসক দিয়েছেন। মেডিকেল সার্টিফিকেটে যে রোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে অপারেশন করে কামরুল সেই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন। বিষয়টি প্রসিকিউশন আদালতে জানালে আদালত আসামিপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কামরুলের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে চরম অসঙ্গতি রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে প্রতারণা করে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার আদেশ নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আসামিপক্ষ যেসব মেডিকেল পেপার দাখিল করেছে, তাতে যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। আসামি ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় আসামি কীভাবে বাইরে গিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেন?
অসঙ্গতিগুলো ট্রাইব্যুনালের নজরে আনার পর আদালত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার আদেশটি বাতিল করে দেন। পাশাপাশি এসব কাগজপত্র কীভাবে সংগ্রহ করা হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে কামরুলের আইনজীবীদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে শোকজ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং এর পেছনে কোনো প্রতারণা থাকলে ট্রাইব্যুনাল কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এর ফলে কামরুল ইসলামের চিকিৎসা আপাতত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেই চলবে।
প্রসিকিউশনের জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী আফতাব মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ভুয়া কাগজ দেওয়ার সুযোগ নেই। সব মেডিকেল সার্টিফিকেটে থাকা চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর অনলাইনে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। এগুলো সঠিক কি না, তা প্রমাণের জন্যই আদালত আমাদের ১৫ দিন সময় দিয়েছে।
এফএইচ/বিএ