জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে (শোন অ্যারেস্ট) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফয়সাল আহমেদ রিমান্ডের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আফজাল নাছের ১৭ নম্বর আসামি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে এলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত গুলিতে আহত হন জবি শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস। এরপর অনিককে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ভুক্তভোগী অনিক ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, প্রাথমিক তদন্তে আফজাল নাছেরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে উত্তরা পূর্ব থানার একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, বিভিন্ন মামলায় এর আগেও আফজাল নাছেরকে একাধিক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ, উত্তরা পূর্ব থানার মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় তাকে চতুর্থ দফায় তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ২৯ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।
এমডিএএ/এমএমএআর