ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা ঠেকাতে ১৩ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ০৬ মে ২০২৬
প্রতীকী ছবি

ঢাকার আদালত অঙ্গনে ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে। বিচারকের সিল-স্বাক্ষর নকল করে পরোয়ানা ইস্যুর অভিযোগ সামনে আসার পরপরই গঠিত কমিটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বুধবার (৬ মে) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে আসে। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি মাত্র ১৫ কর্মদিবসে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে আদালতের বিভিন্ন শাখায় অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও জালিয়াতির একাধিক ঘটনা উঠে আসে। একই সঙ্গে দায়ীদের চিহ্নিত করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৩ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা (ডব্লিউএ) গ্রহণ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম চালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ডিসি প্রসিকিউশন অফিস সূত্রের বরাতে জানা যায়, এখন থেকে পরোয়ানা গ্রহণে রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ এবং বাহকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত না করে কোনো নথি গ্রহণ করা যাবে না। পাশাপাশি আদালতের বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি পরোয়ানা জমা দিতে পারবে না বলেও সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুসন্ধান কমিটি আরও উল্লেখ করেছে, সংশ্লিষ্ট জিআর শাখাকে সরাসরি আদালত থেকে পরোয়ানা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো নথি গ্রহণ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অসম্পূর্ণ বা সন্দেহজনক তথ্যযুক্ত পরোয়ানা সিডিএমএসে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ভুয়া পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো নিবিড় তদারকির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে পাঠানো আটটি ভুয়া পরোয়ানার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আদালতের নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। হাজতখানায় নজরদারি বাড়াতে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আসামিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া সিএমএম আদালতের রেকর্ডরুমে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড কিপারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেন মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। আদালত সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৫ মে) তার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত আইনজীবী সমিতির একাধিক নেতা জানান, প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশগুলো বাস্তবসম্মত এবং দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। তাদের মতে, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।

পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও সভায় একমত পোষণ করে বলেন, আদালতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সুপারিশগুলো দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই ঘটনায় আদালতপাড়ায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো বিচারিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বাড়ছে।
 
এমডিএএ/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।