মামলার বাদী আইনজীবী : অসহায় হালিমা বেগম


প্রকাশিত: ০২:১৮ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৬

মামলার বাদী একজন আইনজীবী হওয়ায় নিজের পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারছেন না হালিমা বেগম নামে কিশোরগঞ্জের এক নারী। এমনকি তার পক্ষে লড়তে অন্য কোর্টের আইনজীবীকেও বাধা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কোর্টের আইন কর্মকর্তারা।

অসহায় হয়ে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর পৌরসভার রাবারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট দুই সন্তান। এসময় সঙ্গে ছিলেন মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা থেকে যাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন।

হালিমা বেগম বলেন, মামলার বাদী একজন আইনজীবী। এজন্য স্থানীয় কোনো অ্যাডভোকেট তার পক্ষে দাঁড়াতে রাজি হননি। ফলে ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া স্বামী ও শ্বশুরের জামিনের আবেদনই করা যাচ্ছে না। এমনকি ঢাকা থেকে আইনজীবী নিয়েও স্থানীয় বাধার মুখে মামলাটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এখন মামলার বিবাদী পক্ষ ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

লিখিত বক্তব্যে হালিমা বেগম বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম আমার আত্মীয়। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি স্থানীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আমার স্বামী, পিতাসহ কয়েকজনের নামে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে বাজিতপুরের সহকারী পুলিশ কমিশনার ঘটনাটি তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তিনি আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরে পুলিশের ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনজীবী আমিরুল ইসলাম আদালতে আপত্তি দাখিল করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দায়ের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে বিচারের জন্য গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গত ৬ আগস্ট রাতে বাজিতপুর থানা পুলিশ ওই মামলার আসামি রশিদ মিয়া ও তার শ্বশুরকে গ্রেফতার করে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

রাশেদ মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম অভিযোগ করেছেন, মামলা পরিচালনা ও জামিন গ্রহণের জন্য তারা আদালতে আবেদন করার জন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারছেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে তারা জানিয়েছেন, কোনো আইনজীবী বাদী হয়ে মামলা করলে বিবাদী পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াবেন না। এই মর্মে কিশোরগঞ্জ জেলা বারের সিদ্ধান্ত নেয়া আছে। যে কারণে তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারছেন না। ফলে ওই মামলায় গ্রেফতারকৃতদের জামিনের জন্যও কোনো আবেদন করতে পারছেন না।

তিনি আরো জানান, মামলাটি পরিচালনার জন্য গত ১৪ আগস্ট ঢাকা থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেনকে কিশোরগঞ্জের আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে আদালতে কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। ওই সময়ে আইনজীবীরা আদালতে হইচই করে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেন। ফলে আদালতে জামিনের আবেদন করা যায়নি।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, মামলা হলে আইনজীবী নিয়োগ করা একটি মৌলিক অধিকার। বিবাদী পক্ষ কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবে না বলে কিশোরগঞ্জ জেলা বার যে মৌখিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আইনসম্মত হয়নি। এ বিষয়ে আমরা উচ্চতর আদালতে যাবো। কিন্তু এই কাজের জন্য মামলার যেসব কাগজপত্র তোলা দরকার সেগুলো স্থানীয় আইনজীবীরা তুলতে দিচ্ছেন না।

তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা না গেলে বাইরে থেকে আইনজীবী নেয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত একজন আইনজীবী লাগবে। ঘটনার দিন স্থানীয় একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হলেও মামলাটি যখন আদালতে উপস্থাপিত হয়, তখন তাকে আদালতে উপস্থিত হতে দেননি স্থানীয় আইনজীবীরা। তিনি উপস্থিত না থাকায় আদালতে জামিনের বিষয়ে কোনো আবেদন করা সম্ভব হয়নি।

রাশেদ মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির জমিজমা নিয়ে মামলাটি করা হয়েছে। তার স্বামীর ভিটেমাটি দখল করার জন্য আমিরুল ইসলাম একটি গোপন দলিল করেছেন। বাস্তবে ওই জমি কেউ বিক্রি করেনি। এখন তিনি ওই জমি দখল করার পাঁয়তারা করছেন।

এমএ/বিএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।