মানবতাবিরোধী অপরাধ : ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু দণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৩:১৮ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিন জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও তাপস কান্তি বল। অন্যদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান তরফদার ও মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

আসামিদের মধ্যে মো. নেছার আলী ও উজের আহমেদকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপর তিন আসামি সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ, ইউনুছ আহমেদ ও মোবারক মিয়াকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এই পাঁচ আসামির মধ্যে ইউনুছ ও উজের রায় ঘোষণা করার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজন মামলার হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

পরে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন সাংবাদিকদের জানান, একাত্তরে মৌলভীবাজারের দক্ষিণখোলা গ্রামে গণহত্যার দায়ে তৎকালীন রাজাকার বাহিনীর দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তিনি সাংবাদিকদের আরও জানান, প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির সাজা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করতে হবে। সেই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে।

নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের মামলায় রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। তবে পলাতক আসামিদের সে সুযোগ নিতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে। এরপর ৯ জানুয়ারি জানানো হয়, মামলায় আজ (বুধবার) রায় ঘোষণা করা হবে।

২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শামসুল হোসেন তরফদারসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে এ মামলায় বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়।

এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর।

২০১৬ সালের ২৬ মে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। এরপর ২০ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

২০১৫ সারের ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন বিকেলেই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীকে (৬০) মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও সোনাটিকি গ্রামের মৌলভি ইউনুছ আহমদকে (৭০) তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এফএইচ/জেএইচ/এআরএস/এমএমজেড/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :