শ্মশান দখল : ক্ষমা চাইতে সময় চাইলেন আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ২৭ মে ২০১৮

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শতবর্ষী শ্মশানের জায়গা দখল করার অভিযোগে স্থানীয় জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আবারও সময় নিলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক। রোববার আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করলে, তা মঞ্জুর করেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে।

রোববার আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করলে, তা মঞ্জুর করেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে।

আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে আজ আদালতে ছিলেন আইনজীবী লায়েকুজ্জামান মোল্লা। অন্যদিকে রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

ব্যানার টানিয়ে ক্ষমা না চাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে স্থানীয় জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে ক্ষমা চাইতে আজিজুলের পক্ষে আবারও সময় চাওয়া হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী (৩১ জুলাই) পরবর্তী দিন ধার্য করেন। শুনানিতে আজ দ্বিতীয় বারের মতো সময় নিলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২০ মে শ্মশানের জায়গা দখলের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে আজিজুল হাজির হলে আদালত তাকে ভৎসনা করেন। শুনানি শেষে আজিজুল হক শ্মশানের কমিটিসহ স্থানীয় জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আদালতের কাছে সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

পরবর্তীতে গত বুধবার শ্মশানের কমিটি ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে একটি ব্যানার ঝুলান আজিজুল হক। ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সেখানে স্পষ্ট ছিল না। পরবর্তীতে গত শুক্রবার স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে আগের ব্যানার অপসারণ করে পৃথক আরেকটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। সেটিতেও ক্ষমা চাওয়ার বিষয় স্পষ্ট ছিল না।

সর্বশেষ ঝুলানো ব্যানারের ছবি রোববার আদালতে উপস্থাপন করে দখলের ঘটনায় আজিজুল হক নিঃশর্ত ক্ষমা চান বলে আদালতকে জানান। ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয় বলে, আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রিটকারী আইনজীবী। এরপর আদালত তার (নেতার) দেয়া কথা অনুযায়ী ক্ষমা চেয়ে ব্যানার লিখে তার ছবি নিয়ে আসার জন্য বলা হয় আদালতের নির্দেশে।

উল্লেখ্য, শ্মশান দখল করা নিয়ে ২০১৬ সালের ২৬ জুন একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট করে। এ রিট আবেদনে ওই বছরের ৩১ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ অবস্থায় ২০১৬ সালে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শুরু হয় হাইকোর্টে। এ রুলের ওপর শুনানির সময় গত ১৩ মে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে তলব করে আদেশ দেন আদালত।

এফএইচ/জেএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :