‘জঙ্গি সাজিয়ে’ ৯ তরুণ হত্যায় ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে ‘জঙ্গি নাটক সাজিয়ে’ ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে আরও দুই সপ্তাহ সময় চান। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
শুনানির জন্য এদিন সকালে মামলার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া ও ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা।
এর আগে এ বিষয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০১৬ সালে ৯ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার মামলায় তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের গত ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পৃথকভাবে সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলা হয়েছিল।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই জাহাজবাড়ি নামের একটি বাড়িতে ৯ তরুণকে আটকে রেখে সোয়াতসহ কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) শাখা সেখানে গিয়ে তাদের গুলি করে হত্যা করে। পরে জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করে।
তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানতে পেরেছে, এ ৯ তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয় বহু আগে। কেউ কেউ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে ছিলেন দুই-তিন মাস ধরে। সেখান থেকে তাদের ধরে নিয়ে রাতে ওই বাসায় জড়ো করা হয়। পরে রাতের বেলা ব্লক রেইডের কথা বলে সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সবাই হাজির হন। পরে সেই লোকদের গুলি করে হত্যা করে জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করেন। সে সময় জঙ্গি নাটক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করার জন্য ইসলামিক ভাবধারার মানুষদের জঙ্গি নাম দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এফএইচ/একিউএফ