শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মৃত্যু : বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১২ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২০

যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) কিশোর হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ছাড়াও নোটিশে যাদের বিবাদী করা হয়েছে তারা হলেন-ডিআইজি প্রিজন, যশোরের জেলা প্রশাসক এবং যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ই-মেইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া নোটিশটি পাঠান। তিনি জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে বলা হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) কর্তৃপক্ষ অনেক কিশোরকে মারপিট ও নির্যাতন করে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজন কিশোর নাঈম হোসেন (১৭), পারভেজ হাসান ওরফে রাব্বি (১৭) এবং রাসেল ওরফে সুজন (১৬) মারা যায় এবং অন্তত পাঁচজন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

কর্তৃপক্ষ প্রথমে এই ঘটনাকে ‘২ কিশোরের মধ্যে মারামারির ফলে মৃত্যু ও আহতের ঘটনা’ মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে। প্রকৃত সত্য ঘটনা প্রকাশ না করে নিজেদের অপরাধ আড়াল করার জন্য এই অসত্য তথ্য প্রচার করায় দেশবাসী হতবাক হয়েছে। বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষের অনিয়মের প্রতিবাদ করলে কিশোরদের অমানুষিক নির্যাতন করা হতো বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের অত্যাচার ও মারপিটের কারণে তিনজন কিশোর মারা গেছে এবং পাঁচজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, কোনো অপরাধী যদি কিশোর বলে বিবেচিত হয় তবে তাকে নিরাপত্তা ও সংশোধনের জন্য জেলে না পাঠিয়ে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়ে থাকে। সংশোধনাগারের কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের ফলে কিশোরদের নিহত ও আহতের ঘটনাটি একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত।

এফএইচ/এসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]