৩ হাসপাতাল ঘুরে নবজাতকের মৃত্যু, তদন্ত অগ্রগতি নিয়ে শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

রাজধানীর তিনটি হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় জমজ নবজাতক মারা যাওয়ার ঘটনা তদন্তের জন্য এবং হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিষয়ে অগ্রগতি, প্রতিবেদন ও আদালতের জারি করা রুল নিয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বিষয়টি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজলিস্ট) রয়েছে বলে জাগো নিউজকে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে রাজধানীর তিনটি হাসপাতাল ঘুরে জমজ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ব্যাখা দিতে গত ২ নভেম্বর নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ।

হাসপাতাল তিনটি হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শিশু হাসপাতাল এবং মুগদার ইসলামিয়া হাসপাতাল।

একইসঙ্গে শিশু হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অবহেলায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এর আগে মৃত জমজ সন্তানদের মরদেহ নিয়ে আদালত চত্বরে নিয়ে যান তাদের বাবা সুপ্রিম কোর্টের এমএলএসএস মো. আবুল কালাম আজাদ। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ওই দিন বলেছিলেন, ‘ ২ নভেম্বর সকালে সুপ্রিম কোর্টের এমএলএসএস মো. আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী সায়েরা খাতুন অসুস্থবোধ করলে মুগদা হাসপাতাল নেয়ার পথে সিএনজির ভেতর জমজ সন্তান প্রসব করেন।’

‘এ সময় তারা পাশের হাসপাতালে যান সেখানে প্রসূতিকে ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে নেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় তারা নবজাতকদের শ্যামলীর ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। পরে জমজ দুই নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সে করে শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, নবজাতকদের শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ খালি নেই বলে জানায়। তার পরিবর্তে তারা নরমাল বেডে শিশু দুটিকে ভর্তির জন্য অনুরোধ করেন। সে জন্য দিনে ১০ হাজার করে টাকা লাগবে বলে তারা জানায়। এরপর জমজ শিশুদের বাবা হাইকোর্টের এক বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর হাইকোর্টের বিচারপতি তার নবজাতকদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, শিশু দুটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন আবুল কালাম। কিন্তু পরিচালক মিটিংয়ে রয়েছেন বলে জানান পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। পরে বলা হয় পরিচালক বাসায় চলে গেছেন। এরপর পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা একজন চিকিৎসককে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নবজাতকদের দেখান।

তখন ওই চিকিৎসক বলেন, জমজ নবজাতকরা আর বেঁচে নেই। এরপর আবুল কালাম আজাদ অ্যাম্বুলেন্সে করে দুই সন্তানের মরদেহ আদালত চত্বরে নিয়ে যান।

এফএইচ/এআরএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]