‘দেশত্যাগের পরিকল্পনার তথ্যে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২১

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীর অনলাইন ভার্চুয়াল জগতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকারের মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) গুলশান থানায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাদী হয়ে মামলা করেন র‌্যাব-১-এর সিপিসি মজিবর রহমান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীর অনলাইন ভার্চুয়াল জগতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন সংস্থাকে কটুক্তি করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ মিথ্যা তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু হয়। এরপর গত ২৯ জুলাই র‌্যাব জানতে পারে, আসামি গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন। তাকে গ্রেফতার না করলে আত্মগোপনসহ দেশত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, শুক্রবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর গুলশান থানার মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার সুষ্ঠুতদন্তের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ শাহানুর রহমান।

অপরদিকে, তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীর অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন সংস্থাকে কটুক্তি করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সম্পর্কে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বা বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, ‘আসামির সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং মহল আছে, যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। আসামি এ মামলার ঘটনার বিষয়ে স্বীকার করলেও তার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী দল, গোষ্ঠী, সংস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রদান করেনি।’

‘এ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও শনাক্তকরণসহ আসামিকে নিয়ে গ্রেফতারি অভিযান পরিচালনার জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন’ বলে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। এরপর হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত ১২টার দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসায় দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব।

এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

জেএ/এমএমএ/এএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]