রাজারবাগ পীরের অফিস নিয়ে কমিশনের সুপারিশ বিবেচনার নির্দেশ
রাজারবাগ দরবারের পীর দিল্লুর রহমান ও তার দরবারের সব সম্পত্তির হিসাব চেয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওইদিন একই সঙ্গে, ওই দরবারে পীরের অনুসারীদের বিরুদ্ধে করা (রিটে উল্লেখিত ৮টি) মামলা তদন্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত শেষে মামলার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে সিআইডিকে। সেই সঙ্গে আদালত রিট আবেদনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বলেছিলেন। ওই দিনের দেওয়া মৌখিক আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে সোমবার (৪ অক্টোবর।
লিখিত আদেশে হাইকোর্ট বলেছেন, রিট পিটিশনের সংযুক্তি অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন হতে প্রতীয়মান হয় যে, কমিটি সাতটি সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:
সাধারণ মানুষকে যেন ধর্মের নামে ধোঁকা দিতে না পারে এবং নিরীহ মানুষের অর্থ-সম্পদ যেন হয়রানিমূলকভাবে মিথ্য মামলা করে হাতিয়ে নিতে না পারে সেজন্য রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের মূল আস্তানাসহ দিশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শাখা কার্যালয় সমূহ বন্ধ করে দিতে হবে।
একইসঙ্গে ‘পীর’ ও তার পৃষ্ঠপোষকতায় ‘উলামা আঞ্জুমান বাইয়্যিনাত’ অথবা ভিন্ন নামে কোনো জঙ্গি সংগঠন আছে কি-না, পীরের প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্পদ চিহ্নিত করা এবং তার সব সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিশদ তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) এ আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রথমে মৌখিক আদেশ দেন। রাজারবাগ পীরের দরবার নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাত দফা সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে সোমবার (৪ অক্টোবর) পূর্ণাঙ্গ লিখিত আদেশ দেওয়া হয়।
লিখিত আদেশ প্রকাশের বিষয়টি মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে রাজধানীর রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং পীর দিল্লুর রহমানের সব সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার বিচারপতিদের স্বাক্ষর শেষে লিখিত আদেশটি প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্টের লিখিত আদেশে বলা হয়েছে, কেন রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ক্রমাগত ফৌজদারি মামলা দায়েরে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে রুল জারি করা হয়েছে।
রুলটি বিচারাধীন থাকাবস্থায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহা-পুলিশ পরিদর্শককে দরখাস্তকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে এ আদেশ পাওয়ার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দানের নির্দেশ দেয়া হলো।
রিট পিটিশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন হতে প্রতীয়মান হয়, এ কমিটি সাতটি সুপারিশ করেছে, এর মধ্যে অন্যতম হলো-
ক) রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমান ও তার প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে যেসব সম্পদ রয়েছে তার তালিকা প্রস্তুত করে আয়ের উৎস ও রাজস্ব দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে;
খ) সাধারণ মানুষকে যেন ধর্মের নামে ধোঁকা দিতে না পারে এবং নিরীহ মানুষের অর্থ-সম্পদ যেন হয়রানিমূলক ভাবে মিথ্যা মামলা করে হাতিয়ে নিতে না পারে সেজন্য রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের মূল আস্তানাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শাখা কার্যালয়সমূহ বন্ধ করে দিতে হবে।
একই সাথে তার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠন ‘উলামা আঞ্জুমান আল-বাইয়্যনিাত’ এবং তার প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রচারিত সংবাদপত্র ‘আলবাইয়্যনিাত ও আল ইহসান’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
এছাড়াও নথি থেকে জানা গেছে, কথিত পীর ও তার দরবার শরিফের নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় সাত হাজার একর জমি, রাবার বাগান অবৈধ দখলে আছে।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী আট ব্যক্তির পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির হাইকোর্টে এ রিট করেন।
রিটকারীদের মধ্যে শিশু, নারী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদরাসার শিক্ষক ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকে রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর ও তাদের মুরিদদের হয়রানিমূলক মামলার শিকার বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও আইজিপিসহ মোট ২০ জনকে বিবাদী করা হয়।
এফএইচ/এমকেআর/এএসএম/এমআরএম