ওয়ার্কশপ মালিককে হাত হারানো নাঈমের চিকিৎসা খরচ দেওয়ার নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২২

কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের কমলপুর এলাকায় ওয়ার্কশপে ড্রিল মেশিনে কাজ করার সময় শিশু নাঈম হাসান নাহিদের ডান হাত হারানোর ঘটনায় নুর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ মালিককে আপাতত চিকিৎসা খরচের টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

চিকিৎসার খরচ পরিশোধ করে আগামী মঙ্গলবারের (২৩ আগস্ট) মধ্যে আদালতে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলেছেন আদালত। ওই দিন এ রুলের বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন রেখেছেন। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

শিশু নাঈমের বাবা আনোয়ার হোসেনের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের শুনানি নিয়ে বুধবার (১৭ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাকীর উদ্দিন ভূইঁয়া। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আদেশের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জাগো নিউজকে জানান, দুর্ঘটনায় হাত হারানোর ঘটনায় ওই শিশুর চিকিৎসা বাবদ নুর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক এর আগে ৫৫ হাজারের মতো টাকা দিয়েছিলেন। আদালত বলেছেন, হিসাব অনুযায়ী আরও যতো টাকা বাকি রয়েছে তা পরিশোধ করতে। তারপর এ বিষয়ে আবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের কমলপুর এলাকার নুর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করার সময় শিশু নাঈমের ডান হাত মেশিনে ঢুকে যায়। এরপর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় তার ডান হাত।

নাঈমের বাবার অভিযোগ, ঘটনার দিন ওয়ার্কশপের ম্যানেজার রাজু আহমেদ তার ছেলেকে জোর করে মেশিন চালাতে দিলে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ১০ অক্টোবর নাঈমের চাচা ওয়ার্কশপ মালিক ও ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব হোসেন, ওয়ার্কশপের মিস্ত্রি স্বপন মিয়া, জুম্মান মিয়া, সোহাগ মিয়া ও ব্যবস্থাপক রাজু মিয়াকে আসামি করা হয়।

২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর নাঈমের বাবা দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। এরপর চলতি বছরের গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শিশু নাঈমের এক হাত হারানোর ঘটনায় তাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না সেই মর্মে জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

হাইকোর্টের মামলায় রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুছ কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভূইঁয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কালিপদ মৃধা, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা পারভিন বিথি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শাহনওয়াজ।

১৭ আগস্ট ওই রুলের ওপর শুনানিতে শিশু নাঈমের হাতের চিকিৎসা বাবদ যতো টাকা খরচ হয়েছে আপাতত তা পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত।

রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভূইঁয়া জাগো নিউজকে জানান, শিশুর পরিবার অত্যন্ত গরিব। দুর্ঘটনার পরে শিশুর চিকিৎসাবাবদ সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের অর্ধেক বিল দিয়েছে শিশুর পরিবার। বাকি টাকা দেবে বলে মুচলেকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেওয়া হয়েছে। তাই আপাতত ওই টাকা পরিশোধ করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

‘ভৈরবে শিশু নাঈমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অল্প বয়সে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারিয়েছে শিশু নাঈম হাসান। নাঈম হাসানের বয়স ১০ বছর। পড়ছে চতুর্থ শ্রেণিতে। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেনের পেশা জুতা ব্যবসা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে আনোয়ার হোসেন কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে এ ওয়ার্কশপের কাজ করতে গিয়ে তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় ডান হাতটি।

এফএইচ/এমএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।