পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম বন্ধে আইনজীবীর চিঠি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২৩
ফাইল ছবি

পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম বন্ধ এবং টোকেন সিস্টেম চালু করে ডিজিটাল বোর্ডে সেবা গ্রহণের সিরিয়াল প্রদর্শনের জন্য চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। ঢাকার বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক বরাবর এ চিঠি দেন আইনজীবী মো. আবু তালেব।

ডাকযোগে ২২ মার্চ পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বেআইনি অগ্রাধিকার দেওয়াসহ যে কোনো অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। পাসপোর্ট অফিসে সেবা প্রার্থীদের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা প্রথা বাতিল করে টোকেন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল বোর্ডে সিরিয়াল প্রদর্শন করতে হবে। মানুষের বসার ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। এছাড়া সবার জন্য সমান নিয়ম চালু করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বিশেষ অবৈধ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ না পান।

আরও পড়ুন: পাসপোর্ট নবায়নে ঘুস দাবি, আগারগাঁওয়ে দুদকের অভিযান

এসব কার্যক্রম হাতে নিয়ে লিখিতভাবে ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে অনুরোধ করেন ওই আইনজীবী। অন্যথায় উপযুক্ত প্রতিকার চেয়ে আদালতে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলেন তিনি।

পাসপোর্ট অফিসে নিজের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনজীবী চিঠিতে বলেন, পূর্বনির্ধারিত সময় ২১ মার্চ দুপুর ১টায় পরিবারের সদস্যদের ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি তোলার জন্য পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হই। লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর দুপুর ৩টায় পাই সিরিয়াল। সিরিয়াল পেয়ে পুনরায় লাইনে দাঁড়িয়ে সব কাগজপত্র ভেরিফিকেশন করি। এরপর পুনরায় একটি কক্ষে সিরিয়াল দিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে সব কাজ শেষ করি।

চিঠিতে পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালককে উদ্দেশ্য করে এই আইনজীবী বলেন, আপনার অফিসের অব্যবস্থাপনা আমাকে দারুণভাবে কষ্ট দিয়েছে। ডিজিটাল ও স্মার্ট-বাংলাদেশ সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে যে কোনো সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ও স্মার্টলি দেওয়া। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অনেক অফিস ও বেসরকারি ব্যাংক, বিমা অফিসে কেউ সেবা নিতে গেলে তাদের টোকেন প্রদান ও ডিজিটাল স্ক্রিনে সিরিয়াল দেখানোর মাধ্যমে সেবার অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকার পাসপোর্ট অফিসগুলোর পুনর্নির্ধারিত আওতা সংশোধন

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রচলিত আইন, বিধি ও সিটিজেন চার্টারে অনুসারে সহজলভ্য ও ভোগান্তিহীন পাসপোর্ট পাওয়া আমার ও আমার মতো সাধারণ নাগরিকের জন্য অনেক দুর্লভ ও ভোগান্তির বিষয়। আনসার সদস্যরা হ্যান্ডমাইকে প্রচার করছিলেন যে, ‘আপনারা সবাই লাইনে দাঁড়ান ও দালালকে টাকা দেবেন না।’

‘এ ঘোষণা হতেই স্পষ্ট যে, মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সিরিয়াল নিতে হয় এবং সেখানে দালালের দৌরাত্ম্য রয়েছে। আমরা যখন লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল নেওয়া, কাগজপত্র দেখানো, ফিঙ্গার দেওয়া ও ছবি তোলার কাজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে করেছি, তখন আবার কেউ কেউ কোনো লাইন না ধরে কিংবা অন্য নিয়ম না মেনে সরাসরি ফিঙ্গার দেওয়া ও ছবি তোলার রুমে গিয়ে দ্রুত কাজ সেরে চলে যান।’

আরও পড়ুন: ভোগান্তির অপর নাম নওগাঁ পাসপোর্ট অফিস

চিঠিতে আরও বলা হয়, যে কোনো নাগরিক উপরোক্ত কাজের জন্য পাসপোর্ট অফিসে গেলে যাতে একটি সিরিয়াল টোকেন নিজে পাঞ্চ করে হাতে নিতে পারেন, কিংবা স্টাফের মাধ্যমে পেতে পারেন এবং ডিজিটাল বোর্ডে যাতে বুথ নম্বর প্রদর্শন করে সিরিয়াল ও সময় পাওয়া যায়- তার ব্যবস্থা করা দুরূহ কোনো কাজ নয়। তাতে মানুষের শারীরিক উপস্থিতি কমে।

আইনজীবী বলেন, এত বড় অফিস ভবন, অথচ সুনির্দিষ্ট রুমের সামনে বসার স্থান না দিতে পারাটা সত্যিই দুঃখজনক বিষয়। সেখানে অবস্থানকালে পাঁচ ঘণ্টাও দেখিনি যে, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা কিংবা সিনিয়র সিটিজেনের জন্য ছবি তোলা কিংবা আনুষঙ্গিক কাজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

এফএইচ/জেডএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।