আলতাফ-শিবলী আপাতত বিচারপতি পদে ফিরছেন না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১১ এএম, ১৪ জুন ২০২৩
ফাইল ছবি

সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়া সাবেক অতিরিক্ত বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেন ও ফরিদ আহমেদ শিবলীকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিতে করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার (১৪ জুন) সকালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, ‘আপিল ও লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করা হলো।’

আইনজীবীরা বলেছেন, ‘সাবেক এ দুই বিচারক পদে ফিরবেন কি না, তা পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে জানা যাবে।’

আদালতে আজ আলতাফ হোসেনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও ফরিদ আহমদ শিবলীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুজীবুর রহমান সম্রাট।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আপিল বিভাগ তাদের আপিল ও লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তা পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে জানা যাবে। তাই আপাতত তারা বিচারপতি পদে ফিরছেন না।’

২০১২ সালের ১৪ জুন আলতাফ হোসেনসহ ছয়জন দুই বছরের জন্য হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৪ সালের ৯ জুন তাদের মধ্যে পাঁচজনকে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বাদ পড়েন এ বি এম আলতাফ হোসেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্থায়ী নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমান ও আলতাফ হোসেন হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন।

২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে দুটি রিট খারিজ হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আলতাফ হোসেন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর শুনানি নিয়ে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এরপর একই বছর তিনি নিয়মিত আপিল করেন।

অন্যদিকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে দুই বছরের জন্য ফরিদ আহমদ শিবলীসহ ১০ জন ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পান। এরপর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে আট বিচারপতির নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। বাদ পড়েন জে এন দেব চৌধুরী (প্রজ্ঞাপনের আগে মারা যান) ও শিবলী। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্থায়ী নিয়োগ পেতে শিবলী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণসহ তা নিষ্পত্তি করে দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে শিবলী লিভ টু আপিল করেন।

এ বি এম আলতাফ হোসেনের আপিল ও ফরিদ আহমদ শিবলীর করা লিভ টু আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে বলে ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধান্ত দেন। এর ধারাবাহিকতায় আপিল ও লিভ টু আপিলের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।

ফরিদ আহমদ শিবলীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সাবেক দুই বিচারক পদে ফিরবেন কি না, তা পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে জানা যাবে। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল যেহেতু খারিজ হয়নি, তাই আপিলে দাবি করা যুক্তিগুলোর সপক্ষে মতামত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এফএইচ/এমকেআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।