বংশী নদী দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইউএনওকে হাইকোর্টে তলব
সাভারের নামাবাজার এলাকায় বংশী নদী দূষণ ও অবৈধ দখলদারদের নিয়ে উচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন ও অনুসারে প্রতিবেদন দাখিল না করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তলব করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী ১৮ জুলাই তাকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে। এক আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২০ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কালীপদ মৃধা।
তিনি বলেন, সাভারের নামাবাজা বংশী নদীর তীরে প্রায় ৫ শতাংশ সরকারি জমিতে অবৈধভাবে আধা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসাদের উচ্ছেদে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তলব করেছেন হাইকোর্ট।
আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী মোহাম্মদ বাকির হোসেন মৃধা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কালীপদ মৃধা।
এর আগে ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্র্বতীকালীন এক আদেশে বংশী নদীর ভেতরে সবধরনের ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া নদী দখল ও স্থাপনা নির্মাণকারীদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বংশী নদী রক্ষায় নির্দেশনা চেয়ে সাভারের এক আইনজীবীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছরেও আদালতের ওই আদেশ প্রতিপালিত হয়নি। উল্টো নদীর ভেতরে ও তীরে দখল অব্যাহত থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।
২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর দৈনিকে ‘দখল-দূষণে শেষ বংশী নদী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৬৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গিলে খাচ্ছে রাজধানীর উপকণ্ঠের সাভারের বংশী নদী। এ নদীর বিরাট এলাকা প্রভাবশালীদের দখলে থাকলেও উদ্ধারে উদ্যোগ নেই। নদীর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে দেদারসে। এসব কারণে ভালো নেই সাভার উপজেলার ৪০ থেকে ৪২ লাখ বাসিন্দা।’ পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন সাভারের স্থানীয় বাসিন্দা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ বাকির হোসেন মৃধা।
ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
আদেশে বংশী নদীর দূষণ বন্ধ এবং ৩০ দিনের মধ্যে দূষণ ও দখলদারদের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সাভারের নির্বাহী কর্মকর্তা, সাভারের ভূমি কর্মকর্তা, ঢাকা জেলার এসপি ও সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ওই প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন আদালত।
পরে ২০২১ সালের নভেম্বরে আকেটি আবেদন করেন আইনজীবী বাকির হোসেন। ওই বছরের ২১ নভেম্বর বাকির হোসেন জানিয়েছিলেন, আদালতের আদেশ মতো প্রতিবেদন না দেওয়ায় আদালতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আবেদন করি। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আদালত অবমানার রুল জারি করেন।
আজ বাকির হোসেন জানান, ওই রুল জারির পর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু ফের দখল করায় আদালত দখলমুক্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন। ইউএনও এ প্রতিবেদন দাখিল না করায় তাকে তলব করেন।
এফএইচ/এসএনআর/এমএএইচ/জিকেএস