সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি

এমরানকে মার্কিন দূতাবাসে জায়গা দেওয়া ঠিক হয়নি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৯ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসার পরে বরখাস্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে যাওয়ার পর সেখানে জায়গা দেওয়া ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উত্তর হলে ৫ শতাধিক আইনজীবীর ড. ইউনূসকে নিয়ে দেওয়া বিবৃতির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।

ড. ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসার পর বরখাস্ত এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে বরখাস্তের বিষয়ে তিনি বলেন, এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে আমাদের বরখাস্ত করতে হবে না। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সদস্যই না।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে হয়রানি ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি-জামায়াতপন্থিসহ অন্যান্য তিন শতাধিক আইনজীবীর সই করা বিবৃতিতে এমন আহ্বান জানানো হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর তারা বিবৃতি দেন। এ নিয়ে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন সরকার সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। এদিন তাদের পক্ষে ৫ শতাধিক আইনজীবী বিবৃতিতে সই করেছেন।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরকার সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমন্বয়ের যৌথ উদ্যোগে এ বিবৃতির আয়োজন করা হয়।

বিবৃতির বিষয়টি সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, যেসব শ্রমিক ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, ওই শ্রমিকরা একটা কোম্পানির। সেই কোম্পানির মালিক হলেন ড. ইউনূস। শ্রমিকদের মালিক সে। তারা একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের সেখানে সরকার বা কারও কিছু করার নেই। আইএলওর নিয়ম অনুযায়ী তারা মামলা করেছেন। কাজেই এখানে বিদেশিরা যে বিবৃতি দিয়েছে মনে হয় তার ইনফরমেশন গ্যাপ আছে, সেই কারণে তারা এই বিবৃতি দিয়েছেন। 

এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার বিষয়ে করা অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বারের সভাপতি বলেন, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে এমরান আহম্মদ যে গেছেন কেন গেছেন সেটি এখনো বলেননি। আমাদের কথা হলো ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তাকে (এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া) জায়গা দেওয়াটা ঠিক হয়নি। আপনি বাংলাদেশের নাগরিক ইচ্ছা করলেই যেতে পারবেন, আমরা যেতে পারবো অ্যাপয়েনমেন্ট ছাড়া, বলেও প্রশ্ন তোলেন।

এর আগে আলোচিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে গত শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এরপর ওইদিনই তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া।

গত সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যাপক ড. ইউনূসের পক্ষে ১৬০ জনের বেশি নোবেল বিজয়ী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই বিবৃতি দিয়েছেন যে, তাকে বিচারিক হয়রানি করা হচ্ছে। সেটার বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। নোটিশ দেওয়া হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে সেই বিবৃতিতে সই করার জন্য। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ বিবৃতিতে আমি সই করবো না।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল দেশটির যে আইন সংস্কার হচ্ছে; বিচার সম্পর্কিত, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিবৃতিতে সই না চিন্তাটাও সে রকমই।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ১৬০ জন নোবেল বিজয়ী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন যে বিবৃতি দিয়েছেন, আমি তাদের বিবৃতির সঙ্গে একমত। আমি মনে করি, অধ্যাপক ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং এটা বিচারিক হয়রানি।

এ বক্তব্য প্রসঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া শৃঙ্খলা ভঙ করেছেন। তিনি যদি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন, তাহলে হয় তার পদত্যাগ করে কথা বলা উচিত, অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলের পারমিশন নিয়ে। তিনি ডিএজি থেকে সেটি করেননি। তিনি শৃঙ্খলা ভঙ করেছেন।

এফএইচ/এমআইএইচএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।