শিশুকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখা কি ভালো

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

অনেকেই মনে করেন, শিশুকে সারাক্ষণ খেলনা, গান বা স্ক্রিনে ব্যস্ত রাখলে সে খুশি থাকবে। দেখতে নিরীহ মনে হলেও, নিউরোসায়েন্স বলছে – ভবিষ্যতে এই অতিরিক্ত উদ্দীপনার মূল্য দিতে হবে শিশুকেই।

শিশুর মস্তিষ্ক শেখে অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে। কিন্তু যদি প্রতিটি মুহূর্ত শব্দ, আলো বা খেলনায় ভরা থাকে, তাহলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকা, মনোযোগ ধরে রাখা বা নিজে নিজে খেলতে শেখার সুযোগ পায় না। এতে ধীরে ধীরে মনোযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুপথগুলো দুর্বল থেকে যেতে পারে।

শিশুকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখা কি ভালো

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু সবসময় বাহ্যিক বিনোদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তারা নীরব মুহূর্তকে অস্বস্তিকর মনে করে বা মানসিক চাপে ভুগতে পারে। ফলে মস্তিষ্ক শান্তির বদলে উত্তেজনাকেই স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি অস্থিরতা, দ্রুত বিরক্ত হওয়া বা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শিশুকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখা কি ভালো

অন্যদিকে, শিশুকে কিছু সময় একেবারে শান্ত ও অবাধ পরিবেশে থাকতে দিলে তার মস্তিষ্ক ভিন্নভাবে কাজ করতে শেখে। নীরব মুহূর্তে শিশু নিজের কৌতূহল ব্যবহার করে, আশপাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজে নিজেই খেলতে শেখে। এতে ধৈর্য, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবসময় শিশুকে ‘এন্টারটেইন’ করার প্রয়োজন নেই। বরং মাঝে মাঝে শুধু পাশে বসে তাকে পর্যবেক্ষণ করাই যথেষ্ট। শান্ত পরিবেশে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র শেখে - নীরবতা নিরাপদ, চাপের নয়। এই ছোট ছোট বিরতিগুলো ভবিষ্যতে মনোযোগ, মানসিক স্থিতি ও আত্মনির্ভরতার ভিত্তি তৈরি করে।

শিশুকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখা কি ভালো

শিশুর জীবনে এই শান্ত মুহূর্তগুলো রক্ষা করা মানে তাকে সারাজীবনের জন্য মানসিকভাবে শক্ত করে তোলা।

সূত্র: আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, জার্নাল অব চাইল্ড সাইকোলজি অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি, ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।