আপনার মন কি কখনো বিশ্রাম নেয় না?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চারপাশ শান্ত। তবু মন থেমে নেই। কারও কণ্ঠের সামান্য পরিবর্তন, ঘরের ভেতর আচমকা নীরবতা, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি - সবকিছু যেন একসঙ্গে বিশ্লেষণ করছে মস্তিষ্ক।

অনেকে একে অতিরিক্ত ভাবনা বা ওভারথিংকিং বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম হতে পারে হাইপারভিজিল্যান্ট কগনিশন - অর্থাৎ অতিরিক্ত সতর্ক মানসিক প্রক্রিয়া।

এটি কি ইচ্ছাকৃত ওভারথিংকিং?

না। এটি সচেতনভাবে বেশি ভাবার সিদ্ধান্ত নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি এক ধরনের টিকে থাকার প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অনিশ্চিত পরিবেশ বা আবেগজনিত আঘাতের অভিজ্ঞতা মস্তিষ্ককে শেখায় যে, সব সময় সতর্ক থাকলেই নিরাপদ থাকা যায়।

ফলে মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য হুমকি খুঁজতে থাকে। এমনকি বাস্তবে বিপদ না থাকলেও সতর্কতার স্তর কমে না।

মস্তিষ্কে কী ঘটে?

নিউরোসায়েন্স গবেষণা বলছে, হুমকি শনাক্ত করার কাজে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশ - বিশেষ করে অ্যামিগডালা - এ অবস্থায় বেশি সক্রিয় থাকে। একই সঙ্গে প্যাটার্ন চিনতে ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম অংশও দ্রুত কাজ করে।

এর ইতিবাচক দিক হলো - এ ধরনের মানুষ সূক্ষ্ম পরিবর্তন ধরতে পারেন, আগেভাগে সমস্যা অনুমান করতে পারেন, তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারেন।

কিন্তু চ্যালেঞ্জ হলো - মস্তিষ্ক অ্যালার্ট মোড থেকে সহজে বের হতে পারে না। বিশ্রাম নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, শরীরেও টানটান ভাব থাকে।

আপনার মন কি কখনো বিশ্রাম নেয় না?

কেন এটি ভুল বোঝা হয়?

যারা এই অভিজ্ঞতার মধ্যে থাকেন না, তারা অনেক সময় এমন মানুষকে অতিরিক্ত নেতিবাচক, নাটকীয় বা কন্ট্রোলিং বলে ভাবেন। অথচ বাস্তবে এটি মানসিক দুর্বলতা নয়; বরং অভিযোজনের ফল। মস্তিষ্ক যে পরিবেশে টিকে থাকতে শিখেছে, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই সতর্কতা গড়ে উঠেছে।

তাহলে করণীয় কী?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, লক্ষ্য হওয়া উচিত বোঝাপড়া, বিচার নয়। সহায়ক পরিবেশ, সহজ ও জানা রুটিন, থেরাপি, ধীর শ্বাসপ্রশ্বাসের চর্চা ও নার্ভাস সিস্টেমকে স্থিতিশীল করার চর্চা ধীরে ধীরে মস্তিষ্ককে বার্তা দেয় - এখন নিরাপদ।

হাইপারভিজিল্যান্ট কগনিশন দুর্বলতা নয়, বরং অভিযোজনের প্রমাণ। তবে যদি এটি বিশ্রাম, সম্পর্ক বা কাজের ক্ষতি করে, তাহলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি। বোঝাপড়া ও সঠিক সহায়তায় অতিরিক্ত সতর্ক মনও স্থিতি ফিরে পেতে পারে।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন; ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ; জার্নাল অব ট্রমাটিক স্ট্রেস ও নিউরোসায়েন্সভিত্তিক হাইপারভিজিল্যান্স গবেষণা

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।