সানস্ক্রিন যেভাবে ব্যবহার করলে ত্বকে ঘাম হবে না

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৫১ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: এআই

ঋতু বা ত্বকের ধরন যেমনই হোক না কেন, সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে বের হওয়া একেবারেই উচিত নয়। শুধু রোদ নয়, ধুলাবালি, দূষণ এবং বৃষ্টির মধ্য দিয়ে পৌঁছানো ইউভিএ রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। এই রশ্মি ত্বকে অকাল বার্ধক্য, দাগ এবং হাইপারপিগমেন্টেশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই মুখ, ঘাড়, কান, হাত ও পায়ের মতো খোলা অংশে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

সানস্ক্রিনের ‘সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর’ বা এসপিএফ ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এটি ত্বকের বার্ধক্য রোধ করে এবং ত্বককে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যবান রাখে। তবে সানস্ক্রিন শুধু বাইরে থাকাকালেই নয়, ঘরে থাকলেও প্রয়োগ করা ভালো, বিশেষ করে যদি ঘরের জানালা বা আলো বেশি হয়।

অনেকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক ঘেমে যায়। তাই কিছু নিয়ম মেনে ব্যবহার করা উচিত-

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন নির্বাচন

সঠিক সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে উপকারের বদলে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল বা লিকুইড বেসড সানস্ক্রিন সবচেয়ে ভালো, কারণ এগুলো ত্বককে ভারী করে না। শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ক্রিম বেসড সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখে।

অন্যদিকে, তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বকের জন্য ম্যাট বা পাউডার বেসড সানস্ক্রিনও ভালো কাজ করে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন কেনার সময় উপাদানের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে, যাতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক না থাকে।

jago

যেসব উপাদান এড়িয়ে চলবেন

সানস্ক্রিন কেনার সময় কিছু উপাদান এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন অক্সিবেনজোন এবং অকটিনক্সেট ত্বকে ব্রণ, র‍্যাশ বা জ্বালাভাব বাড়াতে পারে। এছাড়া অ্যালকোহলযুক্ত সানস্ক্রিন ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। সুগন্ধি বা এসেনশিয়াল অয়েল থাকলেও অনেক সময় ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়। তাই সানস্ক্রিন কেনার আগে এর উপাদান ভালোভাবে যাচাই করে নিন।

এসপিএফ কতটা হওয়া উচিত

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা পেতে সানস্ক্রিনের এসপিএফ-এর মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ১৫ থেকে ৫০ এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন ত্বকের জন্য যথেষ্ট। এসপিএফ যত বেশি হবে, ত্বক তত বেশি সুরক্ষা পাবে। তবে শুধু এসপিএফ বেশি হলেই হবে না, সঠিকভাবে নিয়ম মেনে ব্যবহার করাও জরুরি।

সঠিকভাবে ব্যবহারের নিয়ম

সানস্ক্রিন ব্যবহার করার আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। এরপর ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত সুরক্ষা পায় এবং ইউভি রশ্মির ক্ষতি কমে। সানস্ক্রিন সবসময় বাইরে যাওয়ার ২০ মিনিট আগে লাগানো ভালো, যাতে এটি ত্বকে ভালোভাবে কাজ করে।

যদি সানস্ক্রিন ব্যবহারের পর তীব্র ঘাম হয় তাহলে সানস্ক্রিনে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিনের সঙ্গে পানির সংমিশ্রণ সানস্ক্রিনের রাসায়নিকের ঘনত্বকে কমিয়ে দেবে। পানি ত্বকের রোমকূপকে ঠান্ডা রাখবে। এতে ঘাম কম হবে।

অতিরিক্ত ঘাম হলে তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে ম্যাটিফাইং, জেল বা স্প্রে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ঘাম কম হয় এবং ত্বকও সতেজ থাকে।

অনেকে মনে করেন, একবার সানস্ক্রিন লাগালেই সারাদিনের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। বাইরে থাকলে নির্দিষ্ট সময় পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানো উচিত। এতে ত্বক দীর্ঘসময় সুরক্ষিত থাকে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ভোগ, বিউটিফুল ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।