যেভাবে আলু খেলে ওজন বাড়বে না
রোজার ইফতার হোক কিংবা প্রতিদিনের ঘরোয়া রান্না, আলু যেন আমাদের খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভর্তা, তরকারি, চপ, চিপস থেকে শুরু করে রাস্তার মুখরোচক স্ন্যাকসসহ সবখানেই আলুর রাজত্ব। সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও পেট ভরানো এই সবজিটি অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু একই আলু কখনো হালকা ও পুষ্টিকর, আবার কখনো ভারী ও ওজন বাড়ানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পার্থক্যটা তৈরি করে মূলত রান্নার পদ্ধতি ও খাওয়ার ধরন।
আলু কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে শরীরের প্রতিক্রিয়া। সঠিকভাবে প্রস্তুত করা সেদ্ধ বা হালকা চটকানো আলু, সামান্য ঘি মিশিয়ে খেলে তা শরীরের জন্য উপকারীও হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উপবাসের পর শরীর যখন ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে পেতে চায়, তখন সেদ্ধ আলু সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট হিসেবে কাজ করে।

হজম-সহায়ক মসলা যেমন জিরা, জোয়ান, হিং কিংবা গোলমরিচ ব্যবহার করলে সেদ্ধ আলু আরও উপকারী হয়ে উঠতে পারে। এসব মসলা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে সহায়ক। ফলে আলু খাওয়ার পর ভারী লাগার সম্ভাবনাও কমে। অনেক পুষ্টিবিদ মনে করেন, অল্প ঘি মিশিয়ে গরম আলুর ভর্তা খেলে তা শরীরে স্থিতিশীল শক্তি জোগায় এবং অতিরিক্ত তেল-চর্বির চাপ তৈরি করে না।
তবে একটি বিষয় সব সময় মনে রাখা জরুরি-পরিমাণ। আলু যতই স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা হোক না কেন, অতিরিক্ত খেলে ক্যালোরি বাড়বেই। তাই পরিমিত খাওয়াই মূল কথা। আলুর সঙ্গে ভারী দুগ্ধজাত খাবার বা ঠান্ডা পানীয় না নিয়ে হালকা উষ্ণ সবজি, ডাল কিংবা সালাদের সঙ্গে মিলিয়ে খেলে তা বেশি উপকারী হতে পারে। এতে পেট ভরবে, আবার অতিরিক্ত ক্যালোরিও জমবে না।

অন্যদিকে, আলু যখন ডুবো তেলে ভাজা হয় যেমন চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা টিক্কির মতো খাবার গুলো গুণাগুণ বদলে যায়। উচ্চ তাপে ভাজার সময় অ্যাক্রিলামাইড নামের একটি রাসায়নিক তৈরি হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়। তাছাড়া বারবার ব্যবহৃত তেলে ভাজলে জারিত চর্বি তৈরি হয়, যা শরীরে ভারী ভাব, অম্বল বা ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে। নিয়মিত ভাজাপোড়া খাওয়ার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাজা আলু বারবার গরম করলে তার পুষ্টিগুণ কমে যায় এবং হজমে সমস্যা বাড়তে পারে। ফলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ইফতারের টেবিলে বা প্রতিদিনের খাবারে ভাজাপোড়ার পরিমাণ
কমানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
যদি আলু খেতে ভালোবাসেন, বেছে নিন ঘরে তৈরি সেদ্ধ বা হালকা মাখানো আলু। অল্প ঘি ও হজম-সহায়ক মসলা ব্যবহার করলে স্বাদ ও স্বাস্থ্য-দুটিই বজায় থাকবে।
আলু নিজে দোষী নয় বরং আমরা কীভাবে সেটিকে রান্না ও গ্রহণ করছি, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনভাবে খেলে আলুও হতে পারে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকার একটি নিরাপদ অংশ।
সূত্র: হেলথ লাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:
রান্না ছোলার বদলে ইফতারে থাকুক অঙ্কুরিত কাঁচা ছোলা মাখানো
ফুড পয়জনিং নাকি ডায়রিয়া? লক্ষণ মিললেও দুটো এক নয়
এসএকেওয়াই