ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে ঘরোয়া ‘পাওয়ার মিল্ক’

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ০৯ মার্চ ২০২৬
ছবি: এআই

অনেকেই আছেন যারা অতিরিক্ত রোগা হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। সারাদিন ভালো খাবার খেলেও শরীরে তার প্রভাব দেখা যায় না। আবার অনেকেরই সবসময় ক্লান্ত লাগে, শরীরে শক্তি কম থাকে। এমন সমস্যার সমাধানে অনেকেই বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে খুব সহজ একটি ঘরোয়া পানীয় নিয়মিত খেলে শরীরের দুর্বলতা কমানো এবং ওজন বাড়াতে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে।

পুরোনো দিনে ঘরে ঘরে তৈরি করা হতো এমন একটি পুষ্টিকর পানীয়, যা বর্তমানে আবার নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মাত্র পাঁচটি সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি এই পানীয়টি অনেকের কাছে ‘পাওয়ার মিল্ক’ নামে পরিচিত। এটি শরীরকে শক্তি জোগায়, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে এবং হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

কীভাবে তৈরি করবেন এই বিশেষ পানীয়
এই পানীয় তৈরি করা খুবই সহজ এবং এতে খুব বেশি উপকরণও লাগে না। প্রয়োজন হবে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ, দুটি শুকনো ডুমুর, পাঁচটি খেজুর, পাঁচটি ভেজানো ও খোসা ছাড়ানো কাঠবাদাম এবং একটি পাকা কলা।
সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে সহজেই একটি স্মুদি তৈরি করা যায়। আবার চাইলে দুধের সঙ্গে ফলগুলো আলাদা করে খাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের মাঝামাঝি সময়, অর্থাৎ মিড-ডে স্ন্যাকস হিসেবে এই পানীয় খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

gh8

কেন এই পানীয় এত উপকারী
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই ধরনের খাবার শরীরের ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায় এবং পেশি গঠনে সহায়তা করে।
খেজুর ও কলা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এই দুই ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ও কার্বোহাইড্রেট শরীরের এনার্জি লেভেল বাড়ায় এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়াতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এটি হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সহজে গ্রহণ করতে পারে।

কাঠবাদাম ও দুধের সংমিশ্রণও অত্যন্ত পুষ্টিকর। কাঠবাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই এবং প্রোটিন, আর দুধে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন। এই দুই উপাদান একসঙ্গে হাড় শক্ত করতে এবং শরীরের পেশি মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

কত দিন খাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর দুর্বল হয়ে পড়েছেন বা যাদের শরীর ভেঙে গেছে, তারা টানা ১০ থেকে ১৫ দিন এই পানীয় পান করলে শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন। এতে শুধু ওজনই বাড়ে না, অনেক সময় ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়তে দেখা যায়।

 

সতর্ক হয়ে খাবেন যারা
তবে এই পানীয়টি বেশ ভারী হওয়ায় যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে বা যারা গ্যাস ও অম্বলে ভোগেন, তাদের পরিমাণ বুঝে খাওয়া উচিত। এছাড়া এতে খেজুর ও কলার মতো মিষ্টি ফল থাকায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পান করা ভালো।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।