সোশ্যাল মিডিয়ায় একতরফা ভালোবাসায় জড়িয়ে যাচ্ছেন না তো

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ১৪ মার্চ ২০২৬
ছবি: এআই

বর্তমানে কমবেশি সবাই সোশাল মিডিয়ায় নির্ভরশীল। ঘুম ভাঙা থেকে রাতে বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত ফোন হাতছাড়া করা প্রায় অসম্ভব। সময় পেলেই মানুষ ইউটিউব, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে নজর রাখেন।

ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যেন তাদের আপনজন ভাবতে শুরু করেন, এমনকি প্রেমেও পড়েন। মনোবিজ্ঞানে এই আবেগঘন সম্পর্ককে বলা হয় প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ।

প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ কী?
প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ এমন একতরফা সম্পর্ক, যেখানে একজন ব্যক্তি এমন কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি তৈরি করে, যাকে সে বাস্তবে চেনেই না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি তারকা বা মিডিয়া ব্যক্তিত্বের প্রতি হয়ে থাকে। সম্পর্কটি কেবল ব্যক্তির মনেই থাকে, যারা পারস্পরিক সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও একটি মানসিক বন্ধন অনুভব করে।

১৯৫৬ সালে সমাজবিজ্ঞানী ডোনাল্ড হর্টন এবং রিচার্ড ওহল প্রথম এই ধারণা উল্লেখ করেন। তারা দেখান কিভাবে টেলিভিশনের পর্দায় ব্যক্তিদের সঙ্গে দর্শকরা নিজেদের যুক্ত করে মায়ার সম্পর্ক গড়ে তোলে। সোশাল মিডিয়ার যুগে এই ধরনের সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত ইউটিউবার বা সেলিব্রিটির ভিডিও দেখলে ভক্তদের মধ্যে ভালোবাসা অনুভূতি তৈরি হয়, যা সম্পূর্ণ একপাক্ষিক।

ghj

কেন হয় একতরফা সম্পর্ক 
গবেষণা বলছে, একাকীত্বই এই ধরনের সম্পর্কের মূল কারণ। যাদের বন্ধু-বান্ধব কম, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, তারা প্রায়ই ইউটিউব বা ফেসবুকের ভিডিওয় মনোযোগ দেয়। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের মানসিক সংযোগ তৈরি হয়, যা একধরনের নিরাপদ মানসিক আশ্রয় দেয়।

আপনি যদি প্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের বিচ্ছেদ বা বিতর্কে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন হন, সোশাল মিডিয়ায় তার জন্য মন্তব্য বা বিতর্কে যুক্ত হন, তবে বুঝে নিন আপনি প্যারাসোশ্যাল সম্পর্কের ফাঁদে পড়েছেন।

uio

ইতিবাচক দিক
প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। জীবনের কঠিন সময়ে এটি মানসিক সমর্থন এবং স্বস্তি প্রদান করে। কোনো নির্দিষ্ট অভিনেতা, সংগীতশিল্পী বা কাল্পনিক চরিত্রের ভক্ত হওয়া ব্যক্তিকে একটি সামাজিক গোষ্ঠীর অংশ মনে করাতে পারে।

এছাড়া এটি ভক্ত বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে সামাজিক মেলবন্ধন সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। অনেক সময় পজিটিভ মিডিয়া ব্যক্তিরা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে, যা ভক্তদের স্বপ্ন এবং লক্ষ্য পূরণে উৎসাহ দেয়।

নেতিবাচক দিক
প্যারাসোশ্যাল সম্পর্কের সীমাহীন সুবিধার পাশাপাশি এটি কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ফেলে। একতরফা সম্পর্ক অনেক সময় মানুষের মধ্যে অযৌক্তিক প্রত্যাশা তৈরি করে। বাস্তব জীবনের সম্পর্ক যদি সেই মানদণ্ড পূরণ না করে, তবে হতাশা ও ক্রোধ দেখা দিতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, অতিরিক্ত আবেগীয় নির্ভরশীলতা ব্যক্তিকে পারস্পরিক ও মধুর সম্পর্ক গড়ার পথে বাধা দিতে পারে। মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের সম্পর্ক তুলনা করা আত্মমর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া এই সম্পর্কের প্রতি আসক্তি ব্যক্তিকে ‘অবসেসিভ করে তুলতে পারে, যা মানসিকভাবে ক্লান্তিকর ও বিরক্তিকর।

সোশাল মিডিয়ার যুগে প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এটি মানসিক স্বস্তি এবং অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে, তবে অতিরিক্ত আবেগীয় নির্ভরশীলতা, একপাক্ষিক প্রত্যাশা ও বাস্তব জীবনের তুলনায় অতিরিক্ত মনোযোগ মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। সুতরাং, এই ধরনের সম্পর্ককে সচেতনভাবে এবং সীমিত পরিসরে রাখা উচিত, যাতে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো যায়।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।