রোজায় বেশি চিকেন খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়তে পারে?
রোজায় ইফতার বা রাতের খাবারে অনেকেই নিয়মিত চিকেন খেয়ে থাকেন। মুরগির মাংস সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত খেলে লাভের বদলে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বা বেশি তেল-মসলায় রান্না করা চিকেন খেলে শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর মাত্রা বেশি হয়ে গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বেশি হলে তা ধীরে ধীরে রক্তনালীর ভেতরে জমতে শুরু করে। এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে হৃদ্যন্ত্র পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না এবং দীর্ঘমেয়াদে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই চিকিৎসকেরা সাধারণত কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন।
চিকেন একটি পুষ্টিকর ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। এতে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা শরীর সহজেই গ্রহণ করতে পারে। পাশাপাশি মুরগির মাংসে ভিটামিন ডি৩, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

কখন চিকেন কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে
চিকেনে কিছু পরিমাণ ফ্যাট থাকে, বিশেষ করে মুরগির চামড়ায় কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই চামড়াসহ মাংস বেশি খেলে এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। এজন্য অনেক বিশেষজ্ঞ চামড়া বাদ দিয়ে মুরগির মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন। চিকেন নিজে থেকে কোলেস্টেরল বাড়ায় না। তবে অতিরিক্ত তেল, মাখন বা অস্বাস্থ্যকর রান্নার কারণে এটি ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ
চিকেন কোলেস্টেরল বাড়াবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে রান্নার পদ্ধতির ওপর। যদি রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল, মাখন বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই খাবার কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। যেমন বাটার চিকেন, কড়াই চিকেন বা আফগানি চিকেনের মতো খাবারে তেল ও মাখনের ব্যবহার বেশি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে।

স্বাস্থ্যকরভাবে চিকেন খাওয়ার উপায়
কম তেলে রান্না করা বা গ্রিল করা চিকেন তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর। যেমন গ্রিলড চিকেন, সেদ্ধ চিকেন বা চিকেন কাবাবের মতো খাবারে তেলের ব্যবহার কম থাকে। তাই এসব খাবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কতটা চিকেন খাওয়া নিরাপদ
কতটা চিকেন খাওয়া উচিত, তা ব্যক্তির ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণভাবে সুস্থ একজন মানুষ দিনে প্রায় ২০০ গ্রাম পর্যন্ত মুরগির মাংস খেতে পারেন।
চিকেন বেশি তেলে ভাজা ফ্রায়েড চিকেন এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি প্রসেসড চিকেন যেমন সসেজ বা নাগেটসের মতো খাবার কম খাওয়াই ভালো। তাই পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা চিকেন খেলে তা শরীরের জন্য উপকারীই হতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, হেলথলাইন
- আরও পড়ুন:
ওজনের ওপর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও রোজার প্রভাব কি একইরকম
ঘুমের আগে রিলস দেখার অভ্যাসে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
এসএকেওয়াই