লাক্সারি ফ্যাশনে পুরোনো দেখালেই কি দাম বেশি
ছেঁড়া, ঘষা লেগে মলিন—দেখতে যেন বহুদিনের ব্যবহৃত। কিন্তু এই জুতাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কারণ, এটি পরেছেন বলিউড তারকা সালমান খান। আর জুতাটি কোনো সাধারণ নয়, বরং বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ব্যালেনসিয়াগার 'ডিস্ট্রেসড লেদার কাউবয় বুটস'।
প্রথম দেখায় অনেকেই ভেবেছেন, এটি হয়তো পুরোনো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া জুতা। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই উল্টো। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মার্কেটে এই বুটের দাম প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০ মার্কিন ডলার - বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে।
তাহলে প্রশ্নটা স্বাভাবিক - এত দামি জুতার এমন ছেঁড়া লুক কেন?
এটি ‘ডিস্ট্রেসড ফ্যাশন’ নামে পরিচিত একটি ট্রেন্ড। যেখানে নতুন জিনিসকে ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোনো বা ব্যবহৃত দেখানো হয়। এই লুক তৈরি করতে বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়, যাতে জুতার চামড়ায় স্বাভাবিক ঘষা, ফেডিং বা ভাঁজের মতো ইফেক্ট আসে।
লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গভীর। এখানে শুধু ডিজাইন নয়, বরং ব্র্যান্ড ভ্যালু, সীমিত উৎপাদন বা লিমিটেড এডিশন, এবং ইউনিক স্টাইল - সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় উচ্চ দাম। অনেক সময় প্রতিটি জুতা আলাদা করে ‘ডিস্ট্রেস’ করা হয়, যাতে প্রতিটি জোড়াই হয় একক ও আলাদা।
সালমান খানের মতো তারকারা যখন এমন লুক বেছে নেন, তখন সেটি দ্রুতই ট্রেন্ডে পরিণত হয়। ফলে ‘পারফেক্ট’ বা একেবারে নতুন দেখানোর চেয়ে এখন ‘রাফ’ ও ‘বাস্তব’ লুকই হয়ে উঠছে ফ্যাশনের নতুন ভাষা।
সব মিলিয়ে, লাক্সারি ফ্যাশনে পুরোনো দেখানো মানেই সস্তা নয় - বরং সেটাই হয়ে উঠছে প্রিমিয়াম স্টাইলের প্রতীক। তাই পরেরবার এমন কোনো জুতা দেখলে অবাক হওয়ার আগে ভাবুন - হয়তো সেটির দাম আপনার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।
সূত্র: ভোগ, জিকিউ, হাইপবিস্ট, বালেনসিয়াগার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
এএমপি/জেআইএম