সাধারণ পানি নয়, অ্যালকাইন ওয়াটার কেন আলোচনায়
সাধারণ পানির বাইরে এখন নতুন এক প্রবণতার নাম অ্যালকাইন ওয়াটার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে এই পানীয়ের নাম।
কেউ বলছেন এটি শরীরের অ্যাসিড-বেসের ভারসাম্য ঠিক রাখে, কেউ আবার দাবি করছেন এটি শক্তি বাড়ায় ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। তবে সত্যিই কি অ্যালকাইন ওয়াটার এতটা উপকারী, নাকি এটি কেবলই একটি ট্রেন্ড? কেন হঠাৎ করে সাধারণ পানির বিকল্প হিসেবে অ্যালকাইন ওয়াটার এত আলোচনায়, চলুন খুঁজে দেখা যাক।
বর্তমানে বাজারে অ্যালকাইন ওয়াটার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে অধিকাংশ মানুষ এখনো মনে করেন পানির কোনো প্রকারভেদ নেই। এই ধারনাটি একেবারেই ভুল। কারন আমাদের খাওয়ার মধ্যে অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। বর্তমানে বাজারজাত মিনারেল ওয়াটারের পাশাপাশি অ্যালকাইন ওয়াটারেরও বেশ চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। তবে মিনারেল ওয়াটারের চেয়ে অ্যালকাইন ওয়াটারের দাম তুলনামূলক বেশি।

অ্যালকাইন ওয়াটার নিয়ে অনেকের তেমন ধারণা না থাকায়, অ্যালকাইন ওয়াটারকে অনেকেই মিনারেল ওয়াটার মনে করে থাকেন। যদিও অ্যালকাইন ওয়াটারের রয়েছে বেশকিছু বৈশিষ্ট্য।
অ্যালকাইন ওয়াটার কি?
অ্যালকাইন ওয়াটার বা ক্ষারীয় পানি হলো এমন পানি যার পিএইচ মান সাধারণ পানির তুলনায় বেশি। অর্থাৎ এটি একটু ‘ক্ষারীয়’ প্রকৃতির। সাধারণ পানির পিএইচ প্রায় ৭ (নিরপেক্ষ) থাকে। যেখানে ক্ষারীয় পানির এর পিএইচ সাধারণত ৮-৯ এর মধ্যে থাকে। এছাড়াও এই পানিতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন মতো বেশকিছু খনিজ উপাদান রয়েছে। এই খনিজগুলো শরীরের অতিরিক্ত অ্যাসিডকে কিছুটা নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে, ফলে পানি ক্ষারীয় হয়।
আরও পড়ুন:
অ্যালকাইন ওয়াটার প্রাকৃতিকভাবে এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি এই দুইভাবে পাওয়া যায় । প্রাকৃতিক উপায়ে অ্যালকাইন ওয়াটারের উৎস হলো পাহাড়ি ঝর্ণা বা খনিজসমৃদ্ধ পানির উৎস। অন্যদিকে বিশেষ উপায়ে মেশিনে কৃত্রিম অ্যালকাইন ওয়াটার তৈরি করা হয়।
অ্যালকাইন ওয়াটারের উপকারিতা
- রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। ধারণা করা হয়, অ্যালকাইন ওয়াটার শরীরের মেটাবলিজম কিছুটা উন্নত করতে পারে, ফলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
- দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যাসিডিক খাবার (যেমন সফট ড্রিংক, টক ফল) দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। এক্ষেত্রে অ্যালকাইন ওয়াটার সেই অ্যাসিডকে কিছুটা নিরপেক্ষ করে দাঁতকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে।

- মাড়ির রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। এই পানি মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম কমাতে পারে বলে ধারণা করা হয়। অ্যালকাইন ওয়াটার মাড়ির প্রদাহ বা সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।
- মাংসপেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণায় বলা হয় অ্যালকাইন ওয়াটার পেশির ভর বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং হাড়ের ঘনত্ব উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। এটি শরীরের অম্লতা কমিয়ে ও কোষকে সুরক্ষা দিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
জেএস/