শুষ্ক ত্বক দূরে রাখতে গোসলের পর এই অভ্যাস বদলান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

গোসলের পর আমরা অনেকেই তোয়ালে দিয়ে ভালো করে শরীর মুছে ত্বক শুকিয়ে নেই। কিন্তু এই অভ্যাসটাই অনেক সময় ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়, ফলে শুষ্কতা, টানটান ভাব ও খসখসে অনুভূতি তৈরি হয়। তবে ত্বক পুরো শুকানোর আগেই সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচাতে পারে সহজেই। ত্বক পরিচর্যার এই ছোট কিন্তু কার্যকর অভ্যাস বদলালে নরম, আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর ত্বক ধরে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসল বা মুখ ধোয়ার পরপরই হালকা ভেজা ত্বকে ময়শ্চারাইজার লাগানোই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

ভেজা ত্বক বলতে কী বোঝায়

ভেজা ত্বক মানে এমন নয় যে ত্বক থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। বরং গোসল বা ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পানি মুছে নেওয়ার পর ত্বকে যে সামান্য স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকে সেই অবস্থাকেই বলা হয় ভেজা ত্বক। এই সময়টিই ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।

ভেজা ত্বকে ময়শ্চারাইজার বেশি কার্যকর কেন

ত্বকের ওপরের স্তর যাকে স্ট্র্যাটাম কর্নিয়াম বলা হয়, পানি পেলে নরম ও বেশি শোষণক্ষম হয়ে ওঠে। এই সময় ময়শ্চারাইজার লাগালে তা-

  • ত্বকের ভেতরে থাকা পানিকে আটকে রাখে
  • ত্বক থেকে দ্রুত পানি শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমায়
  • ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরকে শক্তিশালী করে
  • এর ফলে ত্বক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হাইড্রেটেড ও আরামদায়ক থাকে।

শুষ্ক ত্বক দূরে রাখতে গোসলের পর এই অভ্যাস বদলান

ভেজা ত্বকে ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের উপকারিতা

দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা: ভেজা ত্বকে ময়শ্চারাইজার দিলে তা ত্বকের ভেতরের পানি ধরে রাখে। ফলে শুষ্কতা কমে, খসখসে ভাব দূর হয়।
কম পরিমাণেই বেশি ফল: ত্বক আর্দ্র থাকায় অল্প ময়শ্চারাইজারই সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভালোভাবে কাজ করে।
ত্বক হয় নরম ও মসৃণ: পানি ও ময়শ্চারাইজারের সম্মিলিত প্রভাবে ত্বক দ্রুত কোমল হয়, রুক্ষতা কমে।
স্কিন ব্যারিয়ার শক্ত হয়: নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধক্ষমতা ভালো থাকে, যা ধুলাবালি ও ক্ষতিকর উপাদান থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
একজিমা ও অতিরিক্ত শুষ্কতায় উপযোগী: যাদের ত্বক খুব শুষ্ক বা একজিমার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ভেজা ত্বকে ময়শ্চারাইজার লাগানো বিশেষভাবে উপকারী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

আরও পড়ুন: 

কোন ধরনের ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করবেন

ভেজা ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি, শিয়া বাটারজাতীয় ঘন ময়শ্চারাইজার ভালো কাজ করে। এ ছাড়া গ্লিসারিন বা হায়ালুরনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়শ্চারাইজার আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সেরামাইডসমৃদ্ধ ক্রিম ত্বকের সুরক্ষা স্তর মজবুত করে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট, আর স্বাভাবিক বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লোশন বা জেল বেশি উপযোগী।

ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পানি মুছুন। ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়শ্চারাইজার লাগান। হালকা হাতে ম্যাসাজ করে শোষাতে দিন। খুব শুষ্ক জায়গায় প্রয়োজনে একটু বেশি ব্যবহার করুন

সতর্কতা

যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ, তারা ভারী ময়শ্চারাইজার এড়িয়ে চলাই ভালো। ত্বকে যদি ফাঙ্গাল সংক্রমণ থাকে, তবে ভেজা অবস্থায় কিছু লাগানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।