কৃত্রিমভাবে পাকানো পেঁপে চেনার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ০২ মে ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ফলমূল খাওয়ার বিকল্প নেই, এ কথা আমরা সবাই জানি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেঁপের মতো পুষ্টিকর ফল থাকলে শরীর সুস্থ থাকে, হজম ভালো হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ফল কেনার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে পেঁপে দ্রুত পাকানোর জন্য অনেক সময় ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সতর্ক হওয়া জরুরি?

বাজারে অনেক সময় এমন পেঁপে দেখা যায়, যা দেখতে অত্যন্ত উজ্জ্বল, মসৃণ এবং নিখুঁত আকৃতির। এই ধরনের ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিমভাবে পাকানো ফল নিয়মিত খেলে পেটের সমস্যা, বমি ভাব, মাথা ঘোরা এমন কি দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে ফল কেনা উচিত নয়, বরং কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে আপনি নিরাপদ পেঁপে বেছে নিতে পারবেন।

JAGO

রং দেখে চিনুন

প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপের রং সাধারণত একরকম হয় না। এতে হালকা হলুদ, সবুজ এবং কমলার মিশ্রণ দেখা যায়। কোথাও কোথাও ছোট কালো দাগও থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো পেঁপে সাধারণত খুব উজ্জ্বল হলুদ বা গাঢ় কমলা রঙের হয় এবং দেখতে প্রায় নিখুঁত লাগে। যদি পেঁপে অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিকভাবে সুন্দর লাগে, তাহলে একটু সন্দেহ করাই ভালো।

গন্ধে পার্থক্য

প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপেতে হালকা মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে, যা খুব সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু রাসায়নিকভাবে পাকানো পেঁপেতে অনেক সময় কোনো স্বাভাবিক ফলের গন্ধ পাওয়া যায় না। বরং কখনো কখনো কেমিক্যালের মতো অস্বাভাবিক গন্ধ অনুভূত হয়। তাই পেঁপে কেনার আগে বোঁটার কাছ থেকে গন্ধ শুঁকে নেওয়া একটি কার্যকর উপায়। এতে আপনি সহজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

JAGO

নরম-শক্ত ভাব পরীক্ষা করুন

পেঁপে কেনার সময় হালকা হাতে চাপ দিয়ে দেখুন। প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপে সব দিক থেকেই সমানভাবে নরম ও রসালো হয়। কৃত্রিমভাবে পাকানো পেঁপে অনেক সময় বাইরে থেকে নরম দেখালেও ভেতরে শক্ত থাকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে বাইরে অতিরিক্ত নরম হয়ে যায় এবং চাপ দিলে আঙুলের দাগ বসে যায়, যা ভালো লক্ষণ নয়। স্বাভাবিক পেঁপে চাপ দিলে সামান্য বসে গিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এই বৈশিষ্ট্যটি ভালোভাবে খেয়াল করুন।

বোঁটার অবস্থা দেখুন

পেঁপের বোঁটা বা বৃন্তের অংশটি পরীক্ষা করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলের বোঁটার চারপাশ সাধারণত একটু নরম এবং কুঁচকানো থাকে।

যদি দেখেন পেঁপেটি খুব উজ্জ্বল রঙের, কিন্তু বোঁটার অংশটি অস্বাভাবিকভাবে শক্ত, তাহলে বুঝবেন এটি কৃত্রিমভাবে পাকানো। কারণ রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফলে এই অংশটি স্বাভাবিকভাবে শুকায় না।

ভেতরের বীজ দেখে নিশ্চিত হোন

পেঁপে কাটার পর এর ভেতরের বীজ দেখেও অনেক কিছু বোঝা যায়। প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপের বীজগুলো কালো হয় এবং জেলির মতো একটি স্তর দিয়ে ঢাকা থাকে।

অন্যদিকে কার্বাইড বা অন্য রাসায়নিক দিয়ে পাকানো পেঁপের বীজ সাধারণত সাদাটে বা অপরিণত থাকে। কারণ এই ফলগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাকার সময় পায় না।

সচেতন থাকাই নিরাপত্তা

বর্তমান সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সচেতনতা খুব জরুরি। বাজারে ফল কেনার সময় একটু খেয়াল রাখলেই আপনি নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখতে পারবেন। সবসময় চেষ্টা করুন বিশ্বস্ত দোকান বা বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কিনতে। প্রয়োজন হলে বিক্রেতার কাছে ফলের উৎস সম্পর্কেও জেনে নিন।

পেঁপে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল হলেও ভুলভাবে বাছাই করলে এটি উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই আপনি সহজেই প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপে চিনতে পারবেন।

 

সূত্র: এনডিটিভি ফুড, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।