অলোক আচার্যের কবিতা
বারুদ নদী এবং অন্যান্য
ফাইল ছবি
বারুদ নদী
বাঙালি যে এক বারুদ নদী
কে কবে বুঝেছিল
বুকে ধরা ছিল অগণিত চৈত্রের উত্তাপ
এ দেশে একদিন পতাকার জন্য হয়েছিল
রামের অশ্বমেধ যজ্ঞ।
মাটির কণায় কণায় উর্বর বীজমন্ত্র ঘুমিয়ে ছিল
মুখে কোটি স্বাধীনতার তপস্বী—
হাতে রাইফেল অথবা রক্ত
এ দেশের বুকে বাধা ছিল মুক্তির মৈত্র।
****
ঈশ্বর
অসংখ্য দুপুর গেছে শকুনের উল্লাসে
ঈশ্বর বসেছিল—
রক্ত দ্যাখেনি সে, শোনেনি কারো আর্তনাদও!
প্রার্থনাও করেছিল কেউ, কেউ আবার
ডেকেছিল প্রতিশোধের সুরে
ঈশ্বর ঘুমিয়ে ছিল, মার্চ এসেছিল যে রাতে।
****
বীর
সমুদ্রের গর্জন শোনা যায়
সন্ধ্যের বালুকা বেলার মতো সুনসান বুক
নির্জনতা-নিঃসঙ্কোচ ভঙিমায়
কাউকে দাঁড়াতে হয়, উত্তাল ঝড়ের বিরুদ্ধেও
প্রস্ফূটিত ফুলের মতো অন্ধকারেও জেগে থাকতে হয়—
শাণিত অস্ত্র হাতে। খুলির পর খুলি স্তূপ হলেও
অসংখ্য মার্চের রৌদ্র সৌষ্ঠব মাথা উঁচু করে বাঁচে।
এসইউ